আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুরভোটের প্রস্তুতিতে গতি আনতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। কালীপুজোর আগেই পুরভোটের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলতে চায় রাজ্য নেতৃত্ব।
তার পরেই প্রথম দফায় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে যাতে কোনও ক্ষোভ বা অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্কতা অবলম্বন করছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনও একক নেতার সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলে মান্যতা দেওয়া হবে না। বরং নিচুতলা থেকে প্রার্থীদের নাম সংগ্রহ করে একাধিক স্তরে তা খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গ্রাউন্ড জিরো থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম উঠে আসবে। এর পর সেই নাম নিয়ে আলোচনা করবে জেলা ও নির্বাচন সংক্রান্ত কোর কমিটি। জেলা স্তরের প্রস্তাব খতিয়ে দেখে তা পাঠানো হবে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে। সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হবে।
কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা দখলের লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, প্রার্থী বাছাই এবং ওয়ার্ডভিত্তিক রণকৌশল নিয়ে শুক্রবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
কালীপুজোর আগেই প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে দল। সূত্রের খবর, বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা-সহ একাধিক সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বৈঠকে থাকবেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, শশী অগ্নিহোত্রী, সুকান্ত মজুমদার এ ছাড়াও থাকবেন হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রায়, শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ-সহ কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে ২০৯টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেওয়ার কথা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে বিজেপি। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, এলাকার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, জয়ের সম্ভাবনা এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য কলকাতার ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের দলীয় কার্যালয়ে ড্রপ বক্স রাখার উদ্যোগও নিয়েছে বিজেপি।
আগেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করেছে দল। কলকাতার নির্বাচনী দায়িত্বে রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার এবং হাওড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাহুল সিনহাকে।
ফলে শুক্রবারের বৈঠকে দুই পুরসভায় কমিটির কাজের অগ্রগতি, স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রার্থী বাছাইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পুরভোটের প্রস্তুতির পাশাপাশি এসআইআর-কে কেন্দ্র করে বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রচার ও তার মোকাবিলার কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
ভোটার তালিকা, বুথভিত্তিক সংগঠন এবং স্থানীয় স্তরে জনসংযোগের মতো বিষয়গুলি নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেতে পারে। রাজ্যে সরকার গঠনের পর কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচন বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=n0G7RSBfxpaDIap8
রাজ্য ও কেন্দ্রে দলের সরকার থাকার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পুরসভা দখলের লক্ষ্য নিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেই লক্ষ্য পূরণে প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠনকে সক্রিয় করা সব ক্ষেত্রেই আগেভাগে প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে বিজেপি। শুক্রবারের বৈঠক থেকে সেই প্রস্তুতির পরবর্তী রূপরেখা স্পষ্ট হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।
