কুমিল্লার মুরাদনগরে বিয়ের প্রায় ১৫ বছর পর লক্ষ্মী রানী (নামটি পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে তাঁর মৃত্যুর পর বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ রেখে স্বামী বিশ্বজিৎ সরকার চলে যান বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, তাঁকে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে লক্ষ্মী রানীর মৃত্যু হত্যা, নাকি আত্মহত্যা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত লক্ষ্মী রানী মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের (মালিশাইর) ননী চন্দ্র দাসের মেয়ে। তাঁর স্বামী বিশ্বজিৎ সরকার একই উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাখরাবাদ গ্রামের অবনী মোহন সরকারের ছেলে। প্রায় ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের কোনো সন্তান নেই।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই লক্ষ্মী রানীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো।
নিহতের বড় ভাই লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাঁর বোনের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। বোনের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় তাঁদের মা পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বজিৎকে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে দাবি তাঁর।
লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসের অভিযোগ, গত রোববার দুপুরে তাঁর বোনকে মারধর করে হত্যার পর ঘরের তীরের সঙ্গে কাপড় বেঁধে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ রেখে বিশ্বজিৎ চলে যান বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমার বোনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমার বোনের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।” লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস আরও জানান, এ ঘটনায় তাঁদের বাবা ননী চন্দ্র দাস বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, “ঘটনাটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবার এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারা মামলা করতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করা হবে।”
লক্ষ্মী রানীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে নিহতের স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের আনা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী বিশ্বজিৎ সরকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
The post বাঙ্গরায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, হাসপাতালে মরদেহ রেখে স্বামী উধাও appeared first on ভোরের চেতনা.
