The Sangbad · সাধারণ
এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন শেয়ার ছাড়বে মেটা
২২/১০/২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়ন
ও সম্প্রসারণে
অর্থের জোগান
বাড়াতে নতুন
ধরনের শেয়ার
চালুর পরিকল্পনা
করছে ফেসবুকের
মূল প্রতিষ্ঠান
মেটা।
এসব শেয়ারের
মালিকেরা কোম্পানির
সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভোট দিতে পারবেন
না।
তবে শেয়ার
ইস্যুর মাধ্যমে
নতুন মূলধন
সংগ্রহ করেও
বিদ্যমান শেয়ারধারীদের
ভোটাধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।বুধবার (২১ অক্টোবর) তৃতীয় প্রান্তিকের
আর্থিক প্রতিবেদন
প্রকাশের সময়
এ পরিকল্পনার
কথা জানায়
মেটা। এর
আগে প্রযুক্তিবিষয়ক
সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের প্রতিবেদনে এআই খাতে
ব্যয় মেটাতে
ভোটাধিকারবিহীন শেয়ার ছাড়ার সম্ভাবনার কথা
উঠে এসেছিল।নতুন শেয়ারের সুবিধা কী?মেটার প্রধান
অর্থ কর্মকর্তা
(সিএফও) সুসান
লি জানান,
প্রতিষ্ঠানটি নতুন এক শ্রেণির ভোটাধিকারবিহীন
মূলধনি শেয়ার
তৈরি করবে।
লভ্যাংশ হিসেবে
এসব শেয়ার
বিদ্যমান শেয়ারধারীদের
মধ্যে বিতরণ
করা হবে।পরবর্তী সময়ে শেয়ারগুলো শেয়ারবাজারে লেনদেনযোগ্য
হবে। এর
মাধ্যমে মেটা
নতুন অর্থ
সংগ্রহের সুযোগ
পাবে। পাশাপাশি
কর্মীদের পারিশ্রমিক
দেওয়া, অন্য
প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ এবং নিয়মিত করপোরেট
কার্যক্রমেও এসব শেয়ার কাজে লাগানো
যাবে।মেটার পরিকল্পনা
অনুযায়ী, নতুন
শেয়ার চালুর
পরও প্রতিষ্ঠানের
বর্তমান পরিচালনাকাঠামো
বজায় থাকবে।
অর্থাৎ
নতুন বিনিয়োগকারীদের
জন্য মূলধন
সংগ্রহের সুযোগ
তৈরি হলেও
কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিদ্যমান ভোটাধিকারধারীদের
ক্ষমতা অক্ষুণ্ন
থাকবে।ব্যয় বাড়ছে, আয়ও বেড়েছেএআই মডেল,
ব্যক্তিগত এআই সহকারী এবং সফটওয়্যার
নির্মাতাদের জন্য নতুন প্রযুক্তি তৈরিতে
বড় অঙ্কের
অর্থ ব্যয়
করছে মেটা।
এই খাতে
বিনিয়োগ বাড়ানোর
প্রয়োজনীয়তা থেকেই নতুন অর্থ সংগ্রহের
উদ্যোগ নেওয়া
হচ্ছে।প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন
অনুযায়ী, চলতি
বছরের তৃতীয়
প্রান্তিকে মেটার আয় হয়েছে ৬৪
বিলিয়ন ডলার
বা ৬
হাজার ৪০০
কোটি ডলার।
আগের বছরের
একই সময়ের
তুলনায় আয়
বেড়েছে ২৬
শতাংশ। তবে
একই সময়ে
ব্যয় বেড়েছে
৬৮ শতাংশ।আয় বাড়লেও
ব্যয়ের এই
ঊর্ধ্বগতি ভবিষ্যৎ
প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য বিকল্প অর্থের
উৎস
তৈরির গুরুত্ব
বাড়িয়েছে।রিয়েলিটি
ল্যাবসের
লোকসান নিয়ে পূর্বাভাসমেটার ভার্চ্যুয়াল
রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর)
চশমা এবং
সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করা
রিয়েলিটি ল্যাবস
বিভাগ এখনো
লোকসানে রয়েছে।
তবে এ
বিভাগের লোকসান
কমতে পারে
বলে আশা
করছে প্রতিষ্ঠানটি।মেটার পূর্বাভাস
অনুযায়ী, ২০২৬
সালে রিয়েলিটি
ল্যাবসের লোকসান
২০২৫ সালের
তুলনায় কমে
১৮ থেকে
১৯ বিলিয়ন
ডলারের মধ্যে
থাকতে পারে।এআই প্রযুক্তিতে মেটার নতুন উদ্যোগএআই খাতে
মেটার সাম্প্রতিক
উদ্যোগের মধ্যে
রয়েছে মিউজ
স্পার্ক, মিউজ
গ্লিমার, মিউজ
ওয়ান্ডার এবং
মিউজ স্পার্ক
ওপেন মডেল।
সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি মিউজ
কোড নামের
একটি কোডিং
এজেন্টও চালু
করেছে।মিউজ স্পার্ক
ওপেন মডেলের
মূল প্যারামিটার
উন্মুক্ত থাকায়
বাইরের নির্মাতারা
এটি ব্যবহার
করতে পারবেন
এবং নিজেদের
প্রয়োজন অনুযায়ী
উন্নয়ন করতে
পারবেন।মেটার প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তা
(সিইও) মার্ক
জাকারবার্গ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়
মাত্র দেড়
মাসে ১
কোটির বেশি
মানুষ মিউজের
ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট চালু করেছেন।
তাঁর দাবি,
মিউজের জনপ্রিয়তা
দ্রুত বাড়ছে
এবং এটি
প্রায় প্রতিদিনই
অ্যাপলের অ্যাপ
স্টোরে শীর্ষ
অবস্থানে থাকছে।আইনি চ্যালেঞ্জও রয়েছেএআই ব্যবসার
বিস্তারের পাশাপাশি মেটাকে আইনি ও
নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিশেষ করে
কিশোর-কিশোরীদের
নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির
কার্যক্রম নজরদারিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ-সংক্রান্ত একাধিক
মামলার বিচার
আগামী কয়েক
মাসে অনুষ্ঠিত
হওয়ার কথা
রয়েছে।সব মিলিয়ে,
ভোটাধিকারবিহীন নতুন শেয়ার চালুর পরিকল্পনার
মাধ্যমে মেটা
বিদ্যমান শেয়ারধারীদের
নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই নতুন মূলধন
সংগ্রহের সুযোগ
তৈরি করতে
চায়। এআই
খাতে বড়
বিনিয়োগের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের
বর্তমান পরিচালনাকাঠামো
ধরে রাখাই
এ উদ্যোগের
অন্যতম উদ্দেশ্য।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗