সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ফের হেরে গিয়েছে শ্রেয়স আইয়ারের টিম ইন্ডিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের নেপথ্যে কিমো পল। বল হাতে দাপট দেখিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। হাই স্কোরিং ম্যাচে এ হেন পারফরম্যান্সে প্রশংসা কুড়িয়ে নেওয়া কিমোর জীবন কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের থেকে কম কিছু নয়।
ক্রিকেটের ২২ গজে পৌঁছনোর পথটুকু একেবারেই মসৃণ ছিল না কিমোর। সাক্সাকালি নামে এক গ্রামে জন্মান। পল গায়ানার এসেকুইবো নদীর তীরে অবস্থিত এই গ্রাম। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী। দিন আনি দিন খাই পরিবারে বেড়ে ওঠা কিমোর। এতটাই অনটনে ছিলেন, যেখানে ছিল না বিদ্যুৎ, না ছিল পানীয় জল! পরিবারের অন্য সদস্যের সঙ্গে একচিলতে ঘরেই দিন কাটত কিমোর। সংসারের হাল ধরতে চাষের কাজ করতেন তাঁর বাবা। পাশাপাশি মাছ ধরেও উপার্জন করতেন। অভাব-অনটনের সেই কঠিন দিনগুলিতেও অবশ্য ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি কিমো। বরং প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে যাওয়ার জেদ ধরে রেখেছিলেন।
কিমোর জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছিল স্কুলে পড়ার সময়। বোনকে হারানোর শোক নাড়িয়ে দিয়েছিল তাঁকে। প্রিয়জনকে হারানোর সেই যন্ত্রণা বুকে চেপেই ক্রিকেটের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরেছিলেন কিমো। কঠিন সময়ের সঙ্গে লড়াই করে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং বিভাগের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন। ক্রিকেটে কিমোর যাত্রা শুরু ঘরোয়া প্রতিযোগিতার হাত ধরে। ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি রিজিওনাল সুপার ৫০ প্রতিযোগিতায় লিস্ট ‘এ’ অভিষেক হয় তাঁর। ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ গায়ানার হয়ে রিজিওনাল ফোর ডে প্রতিযোগিতায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পা রাখেন। ওই বছরের ৫ আগস্ট গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন কিমো।
২০১৮ সালের মার্চে শেলডন কটরেলের চোট কিমোর সামনে খুলে দেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজা। ক্রিকেট বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ডাক পান তিনি। ওই বছরের ১৫ মার্চ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে অভিষেক হয় তাঁর। এর পর পাকিস্তান সফরের টি-টোয়েন্টি দলেও জায়গা করে নেন কিমো। ১ এপ্রিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন এই ক্যারিবিয়ান বোলার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে তিনটি টেস্টেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন কিমো। এখনও পর্যন্ত ৩ টেস্টে ৬টি, ৩৩ ওয়ানডেতে ৩৬টি, ২৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩১টি উইকেট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। আর ভারতের বিরুদ্ধে ৪১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ফের বুঝিয়ে দিলেন, কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে উঠে আসা এই বোলারের সাফল্য কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়।
