চারপাশে উৎসবের মেজাজ। আলোর সাজে সেজে বাংলা, নতুন জামার গন্ধ। কিন্তু পুজোর কয়েকদিন আগেও মুর্শিদাবাদের সুতির অজগরপাড়া ও হালদারপাড়ায় আনন্দ নেই। হঠাৎ ফল্গু নদীতে উধাও মাছ! ফলে উৎসবের মরশুমে মাছ না পাওয়ায় রীতিমতো উদ্বেগের মৎস্যজীবীরা।
এই তিনমাস মুর্শিদাবাদের সুতির অজগরপাড়া ও হালদারপাড়ার মৎস্যজীবীদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় নদীতে জাল ফেলার মরশুম। মূলত এই তিন মাসের আয়ের উপরই নির্ভর করে বাকি বছরের জীবিকা।
জানা গিয়েছে, অজগরপাড়া ব্রিজের নিচ দিয়ে বয়ে গিয়েছে এই ফল্গু নদী। গত কয়েক বছর এই নদীতে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। মূলত দূষণের কারণেই মাছ ধরা যাচ্ছিল না। গত তিন মাস ধরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। এহেন অবস্থায় ফের জাল ফেলা শুরু হয়। ৬ জন মৎস্যজীবী একসঙ্গে প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে জাল, নৌকা এবং বাঁশ কেনেন। আশা ছিল, মরশুমে মাছ বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেন। কিন্তু প্রথম দু’মাসে প্রায় মাছই মেলেনি। শ্রমিকের মজুরি তোলাই দায় হয়ে পড়ে। গত এক মাসে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আগে যে নদীতে প্রচুর রুই-কাতলা পাওয়া যেত, এখন সেখানে বড় মাছের দেখা নেই! কোনওরকমে কিছু বাঁচা, ঘেরা, বাটা, পুঁটি মিলছে।
২৪ ঘণ্টা টানা পরিশ্রম করেও হতাশ মৎস্যজীবী ফড়িং হালদার বলেন, “খরচের টাকা তুলতেই হিমশিম খাচ্ছি। গত দু’মাসের লোকসান কীভাবে সামলাবো জানি না।” কিন্তু কেন এই আকাল? মৎস্যজীবীদের একাংশের অভিযোগ, নদীতে যথেচ্ছভাবে পাট পচানো হচ্ছে। এরফলে জল দূষিত হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের কথায়, পুকুরে জল না থাকায় বহু চাষি নদীতেই পাট পচাচ্ছেন। পাট পচার পাশাপাশি জমির সার ও কীটনাশক নদীর জল ভয়ংকর দূষিত হচ্ছে। এরসঙ্গে তো রয়েছেই এলাকার বিভিন্ন নোংরা নদীতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ভয়ংকরভাবে নদীর জলের ক্ষতি হচ্ছে। আর সেই কারণেই বড় মাছ সেভাবে আর পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি। যদিও এর প্রকৃত কারণ জানতে জল পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় মানুষজন।
বলে রাখা প্রয়োজন, এই তিনমাস মুর্শিদাবাদের সুতির অজগরপাড়া ও হালদারপাড়ার মৎস্যজীবীদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় নদীতে জাল ফেলার মরশুম। মূলত এই তিন মাসের আয়ের উপরই নির্ভর করে বাকি বছরের জীবিকা। মরশুমের শুরুতেই ক্ষতির মুখে পড়ায় পুজোর আগে সংসার চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের কাছে। মৎস্যজীবীরা চান, প্রশাসন দ্রুত নদীর জলের গুণমান পরীক্ষা করুক। শুধু তাই নয়, নদীতে অবৈধভাবে পাট পচানো যাতে বন্ধ হয় সেই দাবিও তুলেছেন। মৎস্যজীবীদের কথায়, এখনই এই বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের বহু পরিবারের রুজি-রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে।
