আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম একাদশে সুযোগ না পেলেও বৈভব সূর্যবংশীকে নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতীয় দলের সঙ্গে রাখার পক্ষেই সওয়াল করলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার দীনেশ কার্তিক।
১৫ বছরের এই প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে রঞ্জি ট্রফি ২০২৬-২৭ খেলতে দেশে ফিরিয়ে আনার পক্ষপাতী নন তিনি। কার্তিকের মতে, দলের সঙ্গে থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করাও একজন তরুণ ক্রিকেটারের উন্নতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি বৈভবের। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার জানিয়েছেন, দলের দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলছেন। বিশ্বকাপজয়ী এই দুই ক্রিকেটারের পরিবর্তে আপাতত বৈভবকে খেলানোর পরিকল্পনা নেই ভারতীয় দলের। ফলে দলের সঙ্গে থাকলেও বেঞ্চে বসেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হবে তরুণ ওপেনারকে।
তবে প্রথম একাদশে সুযোগ না পেলেও বৈভবকে নিয়ে প্রতিপক্ষের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি নেই। তাঁর ব্যাটিং প্রতিভা এবং আগ্রাসী মেজাজের কারণে তাঁকে ঘিরে আলাদা পরিকল্পনা করতে হচ্ছে প্রতিপক্ষ দলগুলিকে। এই পরিস্থিতিতে বৈভবকে দেশে ফিরিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলানোর প্রস্তাবের সঙ্গে একমত নন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মেন্টর ও ব্যাটিং কোচ দীনেশ কার্তিক।
ক্রিকেট সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইটকে কার্তিক বলেন, “দলে সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটাররা যদি মনে করেন বেঞ্চে বসে থাকার পরিবর্তে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলাই ভাল, তা হলে বিদেশ সফরে সব সময় মাত্র ১১ জন ক্রিকেটারই যাবে। সেটা তো হতে পারে না। বৈভব বিশেষ প্রতিভা বলে ওকে প্রথম একাদশে না থাকলে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত, এমন যুক্তি মানা যায় না। তা হলে দলের বাকি পাঁচজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন উঠবে। এই যুক্তির কোনও শেষ নেই।”
কার্তিক অবশ্য মেনে নিয়েছেন, শুধু মাঠের বাইরে বসে থেকে বৈভবের ক্রিকেটীয় উন্নতি কতটা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তাঁর কথায়, “আমি বুঝতে পারছি, কেউ কেউ মনে করেন যে সাইডলাইনে বসে থাকলে বৈভবের উন্নতিতে খুব বেশি সাহায্য হবে না। কিন্তু দলের অংশ হওয়ার অর্থই হল, যখন মাত্র ১১ জন খেলার সুযোগ পায়, তখন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আশা করি, বৈভবের সঙ্গে এ বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা হয়েছে।”
প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে বৈভবকে আশ্বস্ত করেছেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও। ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, বৈভব এখনও খুবই তরুণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য তাঁর সামনে অনেক সময় রয়েছে। আপাতত দলের দুই ওপেনার ধারাবাহিকভাবে রান করছেন। তাই তাঁদের সরিয়ে বৈভবকে সুযোগ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
আইয়ারের মতে, নিউজিল্যান্ডের মতো বিদেশের পরিবেশে দলের সঙ্গে থাকলে বৈভব পিচ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিবেশে খেলতে নামলে এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাজে লাগবে। এমনকি পরবর্তী সময়ে এই পরিস্থিতিতে প্রথমবার খেলতে আসা সতীর্থদেরও সাহায্য করতে পারবেন তিনি।
এর আগে ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরও বৈভবের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও একটিও ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি বৈভব। তবে তার আগে লাল বলের ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের দলীপ ট্রফিতে ইশান কিষানের নেতৃত্বাধীন পূর্বাঞ্চলীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন এই তরুণ ব্যাটার।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দলের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে এক অঙ্কের রানে আউট হলেও পরের ম্যাচে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেন বৈভব। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮১ বলে ৯২ রান করেন তিনি। রান তাড়া করার সময়ও তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪০ রান। দক্ষিণাঞ্চলীয় দলের বিরুদ্ধে ফাইনালে করেন ৪৪ ও ৮ রান।
এখনও পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১টি ম্যাচ খেলে ১৭টি ইনিংসে ৩৯৯ রান করেছেন বৈভব। তাঁর ব্যাটিং গড় ২৩.৪৭ এবং স্ট্রাইক রেট ৯৬.৬১। এখনও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শতরান না পেলেও দুটি অর্ধশতরান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
বৈভবকে ভবিষ্যতে তিন ফরম্যাটেই ভারতের হয়ে খেলতে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটার। কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকরও তাঁকে টেস্ট ক্রিকেটে দেখতে চান। তবে আপাতত ভারতীয় দলের টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনাতেই রয়েছেন এই তরুণ ওপেনার।
অন্যদিকে, ওয়ানডে ক্রিকেটে যশস্বী জয়সওয়ালও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। বর্তমানে কেএল রাহুলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নিজের জায়গা পাকা করেছেন তিনি। রোহিত শর্মা অবসর নিলে ভবিষ্যতে ওয়ানডে দলে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রথম একাদশে সুযোগ না পেলেও নিউজিল্যান্ড সফরে বৈভবকে দলের সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করছেন দীনেশ কার্তিক। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক দলের পরিবেশে থাকা, সতীর্থদের কাছ থেকে শেখা এবং বিদেশের পিচ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন—সবই বৈভবের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
