প্রিয় মানুষের চলে যাওয়া জীবনে তৈরি করে গভীর শূন্যতা। সেই শূন্যতা বুকে নিয়েও সময়ের সঙ্গে এগিয়ে চলতে হয়, সামলাতে হয় জীবনের নানা দায়িত্ব। প্রয়াত স্ত্রী ইকরার জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে নিজের এমনই অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন অভিনেতা জাহের আলভী।
স্ত্রীকে হারানোর বেদনা, তাকে ঘিরে জমে থাকা অভিমান এবং একমাত্র সন্তান রিযিককে নিয়ে সামনে এগিয়ে চলার বাস্তবতা উঠে এসেছে তার লেখায়।
ফেসবুকে ইকরার সঙ্গে নিজের একটি ছবি প্রকাশ করে দীর্ঘ পোস্ট দেন আলভী। সেখানে স্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জীবনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্যও তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এই অভিনেতা।
পোস্টের শুরুতে ইকরাকে উদ্দেশ করে আলভী লেখেন, ‘তুমি আবার প্রমাণ করে গেলে, একজন মৃত মানুষের ভ্যালু অনেকগুলো জীবিত মানুষের চেয়ে অনেক বেশি।’
ইকরা বেঁচে থাকলে জন্মদিনটি হয়তো অন্য রকমভাবে কাটত—এমন ভাবনাও উঠে এসেছে তার লেখায়। হয়তো তিনজন মিলে কেক কেটে উদযাপন করতেন দিনটি। কিন্তু ইকরার অনুপস্থিতিতে সেই মুহূর্তগুলো এখন কেবল স্মৃতি আর কল্পনায় রয়ে গেছে।
ইকরাকে হারানোর পরও দৈনন্দিন জীবন থেমে থাকেনি আলভীর। অক্সিজেন নেওয়া, খাওয়া-দাওয়া, গোসল, গান শোনা, হাসি কিংবা শুটিং—জীবনের প্রয়োজনেই এসব কাজ করে যেতে হচ্ছে তাকে। কিন্তু স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এই চেষ্টার পেছনেও যে নানা প্রশ্ন ও আক্ষেপ রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে তার পোস্টে।
আলভী লিখেছেন, ‘কেন তুমি চলে যাওয়াতে আমার জীবন থেমে যাচ্ছে না, কেন তুমি চলে যাওয়াতে আমার মুখে এখনো গান আসে, কেনই বা এখনো আমি ছবি আপলোড দেই, কেনই বা আমি শুটিং করে জীবিকা নির্বাহ করি। ’
স্ত্রীর জন্মদিনে এসব প্রশ্নের মধ্য দিয়েই নিজের ভেতরের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। ইকরার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। আলভীর ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুর কাছে নিজের মনের কথা বলা কিংবা সরি বলার অধিকার তার রয়েছে।
ইকরার স্মৃতির পাশাপাশি পোস্টে উঠে এসেছে তাঁদের একমাত্র সন্তান রিযিকের কথাও। সন্তানকে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা এবং তার সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বের কথা জানিয়েছেন আলভী। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সন্তানকে আগলে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
নিজের জীবনকে আবার গুছিয়ে নেওয়ার এই চেষ্টায় ইকরা অভিমান করে থাকলে তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন অভিনেতা। তার লেখায় একদিকে যেমন প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে সন্তানকে ঘিরে বেঁচে থাকার দায়িত্ববোধ।
ইকরার প্রতি ভালোবাসা ও স্মৃতির কথা জানাতে গিয়ে ধর্মীয় অনুভূতির কথাও তুলে ধরেছেন আলভী। তার ভাষ্য, নামাজের বিছানায় মোনাজাতের সময়ও ইকরা থাকেন তার ভাবনায়।
আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নামাযের বিছানায় মোনাজাতে তুমি আমার প্রথম সারিতেই থাকো। তুমি বেঁচে থাকবে আমার মধ্যে, আমার সন্তানের মা হয়ে। একশত একটা অভিমান তোমার প্রতি, তবুও কোন ক্লেশ নেই। দেখা হবেই তোমার সাথে, মিস নাই। বাকি আড্ডা সেদিনের জন্য রেখে দিলাম। অভিমানটাও। যেখানেই থাকো, ভালো থাকো আর আমাদের দেখে রাইখো, বিশেষ করে আমাদের রিযিককে।’
পোস্টের শেষাংশে ইকরার প্রতি ভালোবাসা, অভিমান ও পুনরায় দেখা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন আলভী। পাশাপাশি প্রয়াত স্ত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা হিসেবে আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলভীকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছিল। মামলায় কারাভোগের পর বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। একমাত্র ছেলে রিযিককে নিয়ে জীবন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এই অভিনেতা।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: বিনোদন
১ ঘন্টা আগে
১৪ অক্টোবর ২০২৬
১৪ অক্টোবর ২০২৬
