দশমীর সকাল থেকেই বাজছে বিসর্জনের বাদ্যি। বাপেরবাড়ি থেকে উমার কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পালা। দুপুর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন ঘাটে শুরু হয়ে যাবে দেবী দুর্গার বিসর্জন। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না হয়, সেদিকে কড়া নজরদারি, নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। বিসর্জনের জন্য কেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? সেসব খতিয়ে দেখতে এদিন সকালেই বাবুঘাটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
দশমীর সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পুজো মণ্ডপগুলিতে সিঁদুরখেলা চলছে। দুপুরের পর থেকে কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে বিসর্জন শুরু হয়ে যাবে। ঘাটগুলিতে বিসর্জনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও চলছে। কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার তরফে নজরদারি চলছে। এদিন সকালে বাবুঘাটে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কুমার নন্দা, কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন গঙ্গার ঘাটে।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্ট ও দমবন্ধ হয়ে তরতাজা ১৯টি প্রাণ চলে গিয়েছে। বিসর্জনের সময় গঙ্গার ঘাটগুলিতে প্রচুর জনসমাগম হয়। ফলে বিসর্জন ঘিরতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না হয়, সেই নজরদারি চলছে। পাশাপাশি গঙ্গাদূষণ ও পরিবেশ দূষণ রুখতেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নয়া বিজেপি সরকারের তরফে। বিসর্জনের আগে এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী বাবুঘাট, বাজে কদমতলা ঘাট, জাজেস ঘাট পরিদর্শন করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একদিকে নিরাপত্তা, পরম্পরা, ঐতিহ্য মেনেই বিসর্জন হবে। সজাগ রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা টিম। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নজরদারি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর পুরসভার।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার কাজে যুক্ত রয়েছে এনডিআরএফ। বিসর্জন শেষের পরে ঘাট সাফাইয়ের কাজও হবে।” সনাতনীরা ছাড়া আর কেউ মূর্তির কাঠামোয় হাত দেবেন না। সেই কথাও জানিয়েছেন তিনি। আকাশপথেও গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ড্রোন ওড়ানো হবে। কলকাতার চারটি গঙ্গার ঘাটে কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারি রয়েছে।বিসর্জনের সময় ঘাটে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ।
