চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিস সাঁ জার্মেইর (পিএসজি) বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্কোয়াডে চমক রেখেছেন বার্সেলোনা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। রক্ষণভাগে একাধিক খেলোয়াড়ের চোটের কারণে প্রথমবারের মতো মূল দলে ডাক পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক অ্যালেক্স ক্যাম্পোস। একই সঙ্গে স্কোয়াডে ফিরেছেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিম।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় পিএসজির মাঠে মুখোমুখি হবে দুই দল। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়সংকট ভাবিয়ে তুলেছে বার্সেলোনাকে।
আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন, জুলস কুন্দে ও এরিক গার্সিয়ার চোটের কারণে বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে ফ্লিককে। এমন পরিস্থিতিতে তরুণ ডিফেন্ডার ক্যাম্পোসের ওপর আস্থা রেখেছেন বার্সা কোচ।
স্পেনের আইতোনা শহরে জন্ম নেওয়া ক্যাম্পোসের ফুটবলে হাতেখড়ি অ্যাটলেটিক সেগ্রে ক্লাবে। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে বার্সেলোনার একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়েন এই সেন্টার-ব্যাক।
২০২৬-২৭ মৌসুমে বার্সেলোনা অ্যাটলেতিকের হয়ে সেন্ট অ্যান্ড্রিউ স্টেডিয়ামে প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেন ক্যাম্পোস। অল্প সময়ের মধ্যেই দলের শুরুর একাদশে জায়গা করে নিয়ে রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি।
বার্সেলোনা অ্যাটলেতিকের কোচ জুলিয়ানো হাউস বেলেত্তির অধীনেও নিয়মিত ভালো পারফর্ম করছেন ক্যাম্পোস। গত শনিবার উতেবোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচেও প্রথম একাদশে ছিলেন তিনি। ওই জয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো জয়ের দেখা পায় বার্সেলোনার রিজার্ভ দল।
১৮৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার ক্যাম্পোসের অন্যতম শক্তি লম্বা পাসে দক্ষতা। বল পায়ে আত্মবিশ্বাস, নির্ভুল পাস দেওয়া এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার সামর্থ্যও রয়েছে তাঁর। চলতি মৌসুমে হেড থেকে একটি গোলও করেছেন এই তরুণ ডিফেন্ডার।
এর আগেও মূল দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন ক্যাম্পোস। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথমবার তাঁকে সিনিয়র দলের অনুশীলনে ডাকেন ফ্লিক। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁর সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তির ঘোষণা দেয় বার্সেলোনা। চুক্তিতে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
রক্ষণভাগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে না পাওয়ায় পিএসজির বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার সামনে বার্সেলোনা। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পেয়েছেন তরুণ ক্যাম্পোস। এখন দেখার বিষয়, ফ্লিকের আস্থার প্রতিদান মাঠে কতটা দিতে পারেন তিনি।
এমএস/
