প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৬ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টের স্বতন্ত্র সদস্য হেলেন হেইনসকে গাড়িচাপা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় হেইনসের একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলেন হেইনস দেশটির ফেডারেল পার্লামেন্টে ইন্ডাই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভিক্টোরিয়া রাজ্যের গ্রামীণ শহর ওয়াংগারাট্টায় টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজারের ধাক্কায় আহত হন তিনি।
পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ও হামলার উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তার নাম ব্রেন্ডন নিউজান্ট বলে জানিয়েছে। বুধবার আদালতে তার হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আহত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা এবং কমনওয়েলথের একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার অভিযুক্তের বাবা রড নিউজান্ট এক বিবৃতিতে হেলেন হেইনসকে বন্ধু এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে তিনি বলেন, হেলেন ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের বন্ধু। তাঁর সঙ্গে যা ঘটেছে, তা কল্পনার বাইরে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মঙ্গলবার কয়েকটি সাক্ষাৎকারে জানান, গাড়িটি প্রথমে শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে এগিয়ে যায়। পরে ঘুরে এসে হেইনসকে ধাক্কা দেয়। সাত বছর ধরে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। ঘটনার সময় নিজের গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে মালপত্র বের করছিলেন হেইনস।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুটি গাড়ির মাঝখানে চাপা পড়েন তিনি। এবিসি ও সিএনএনের সহযোগী সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তার একটি পা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে সেটি কেটে ফেলতে হয়েছে। চিকিৎসকেরা তার অন্য পা বাচানোর চেষ্টা করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট অ্যাশলি মেসন জানান, ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত হেইনসকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। পুলিশ পৌছানো পর্যন্ত তারা গাড়িচালককে আটকে রাখেন।
এবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্থানীয় নরসুন্দর রিকি জেফেরিজ জানান, তিনি নিজের দোকান থেকে ছুটে বেরিয়ে এসে চালকের পকেট থেকে একটি ছুরি নিয়ে তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করেন। পরে চালককে শান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। ঘটনার পর জেফেরিজের ভূমিকার প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিকদের নিরাপত্তা এবং হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তদন্তকারীরা এখনো অভিযুক্তের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
