কক্সবাজারের পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ।
শনিবার, কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রী এবং এসোসিয়েশন অফ ফেয়ার এন্ড ফেস্ট ইউএসএ ইনকর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘পর্যটন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনায় কক্সবাজার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কক্সবাজার বিমানবন্দর, রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এই অঞ্চলকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ - চীন অর্থনৈতিক করিডর এবং সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভায় সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, নীতিগত জটিলতা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে বিনিয়োগের অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে ওয়ান-স্টপ সেবা চালু, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন প্রদান এবং সরকার, শিল্পখাত ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের আহ্বান জানান বক্তারা।
কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রী’র সভাপতি আবদুল শুক্কুর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, কক্সবাজারের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সমস্যার প্রতিফলন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদের আহ্বায়ক ব্যবসায়ী জাকির হোসেন নয়ন ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি জেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ত্বরান্বিত করতে চেম্বারের কার্যকর নেতৃত্বের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এসোসিয়েশন অব ফেয়ার এন্ড ফেস্ট ইউএসএ ইনকর্পোরেশনের সমন্বয়ক ও এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদের সদস্য আতিকুর রহমান স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ‘কক্সবাজারের পর্যটন উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। চেম্বার সভাপতি আবদুল শুক্কুরের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন জাকির হোসেন নয়ন, সালাউদ্দিন ইউসুফ, এ কে মাসুদ আহমেদ, আবু মোরশেদ চৌধুরী, আতিকুর রহমান ও মোহাম্মদ আল জুবায়ের মানিক।
এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক সালাউদ্দিন ইউসুফ সমন্বিত হেলথ কেয়ার ট্যুরিজমের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্যানেল আলোচনায় কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল গুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তুললে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এসএমই অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কক্সবাজারের দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকি বিবেচনায় সব উন্নয়ন কার্যক্রম জলবায়ু-সহনশীল করার আহ্বান জানান। আলোচক মোহাম্মদ আল জুবায়ের মানিক সমুদ্র সৈকতের আশপাশে অপরিকল্পিত ভাসমান দোকানপাট নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় কক্সবাজারের জন্য সমন্বিত বিনিয়োগ ও পর্যটন উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম গঠন, সরকারি-বেসরকারি যৌথ কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কক্সবাজার চেম্বারের পরিচালক এম. রেজাউল করিম, গিয়াস উদ্দিন জিকু ও মুকিম খান, টোয়াক সভাপতি আনোয়ার কামাল, মানি চেঞ্জার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি এম. এস. জামান, হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আওলাদ হোসাইন এবং নারী উদ্যোক্তা মনোয়ারা পারভীন। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের পরিচালক আবুল আলা মো: আনোয়ারুল আরিফ, আবু ফারহান, মোহাম্মদ মোছা, টোয়াকের পরিচালক মোঃ আব্দুস সাত্তার ও অন্যান্য বিশিষ্টজন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চেম্বারের সাবেক পরিচালক আবিদ আহসান সাগর। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
