লভ্যাংশ ইস্যুতে ৯ কোম্পানির বিরুদ্ধে বিএসইসির শাস্তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত
মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ২০২৫ অর্থবছরের অনুমোদিত নগদ লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিতরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯টি কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে নগদ লভ্যাংশ বিতরণের বিদ্যমান নিয়মে সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আইন অমান্যকারী ৯টি কোম্পানির মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত ৫টি কোম্পানি হলো: আফতাব অটোমোবাইলস, নাভানা সিএনজি, ফরচুন শুজ, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন ও অ্যাডভেন্ট ফার্মা। বাকি চারটি কোম্পানি ডিএসইর এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত। এগুলো হলো মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোটেক, কৃষিবিদ সিড, বিডি পেইন্টস ও কৃষিবিদ ফিড।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, মূল বোর্ডের কোম্পানিগুলোর মধ্যে আফতাব অটোমোবাইলস অনুমোদিত নগদ লভ্যাংশের মাত্র ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ, নাভানা সিএনজি ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং অ্যাডভেন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস ৫০ দশমিক ২২ শতাংশ বিতরণ করেছে। অন্যদিকে, ফরচুন সুজ ও ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি।
এসএমই বোর্ডের চার কোম্পানির মধ্যে মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোটেক অনুমোদিত লভ্যাংশের ২৬ দশমিক ১৯ শতাংশ বিতরণ করেছে। বাকি তিনটি কোম্পানি কৃষিবিদ সিড, বিডি পেইন্টস ও কৃষিবিদ ফিড লভ্যাংশের কোনো অর্থই পরিশোধ করেনি।
বিদ্যমান সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, নগদ লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) অন্তত এক দিন আগে ঘোষিত লভ্যাংশের পুরো অর্থ একটি পৃথক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতে হয়। এরপর ব্যাংক থেকে পাওয়া সনদে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবের সত্যায়ন নিয়ে তা সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য ৯টি কোম্পানি এই আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিএসইসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নগদ লভ্যাংশ বিতরণের নিয়মেও পরিবর্তন আনছে বিএসইসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এজিএমে লভ্যাংশের প্রস্তাব উত্থাপনের আগেই কোম্পানিকে ঘোষিত লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে এবং ব্যাংক সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে কোনো কোম্পানি এজিএমে নগদ লভ্যাংশসংক্রান্ত কোনো এজেন্ডা উত্থাপন করতে পারবে না। এদিকে, একই কমিশন সভায় করপোরেট গভর্নেন্স কোড ২০১৮-এর আওতায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হালনাগাদ ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট পাওয়ার পর স্বতন্ত্র পরিচালকদের পুনর্নিয়োগ অনুমোদন করা হবে। বিএসইসির মুখপাত্র জানান, হালনাগাদ সিআইবি রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনো স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ পেলে কমিশনের আর আলাদাভাবে কাগজপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না।
একইভাবে, আগে যোগ্যতাসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে ছাড় পাওয়া স্বতন্ত্র পরিচালককে একই বা অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন করে বিএসইসির ছাড়পত্র নিতে হবে না।


