ইংরেজবাজারের মহেশমাটি আবাসনের দুর্গাপুজোর এ বার ৪৮তম বর্ষEi Samay
Published on
:
1 min read
কৌশিক দে, মালদা
প্রায় পাঁচ দশক আগে একটি সরকারি আবাসনে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। আজও ধুমধাম করে সেই পুজো আয়োজন করে আসছেন আবাসিকরা। মালদার ইংরেজবাজার শহরে ওভারব্রিজ পেরিয়ে আইটিআই মোড় থেকে পিছনের রাস্তা ধরে কিছুটা এগোলেই মহেশমাটি সরকারি আবাসন। প্রায় ৩৫০ পরিবারের বসবাস এখানে। এ বছর পুজোর ৪৮তম বর্ষ। রীতিমতো বারোয়ারি পুজোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে এই পুজো।
আবাসনের মধ্যেই স্থায়ী কংক্রিটের মণ্ডপ রয়েছে। প্রতিবছরের মতো এ বারও বিভিন্ন ধরনের আলো দিয়ে গোটা আবাসন চত্বর সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এখানকার অধিকাংশ সরকারি কর্মী পুজোর দিনগুলোয় বাইরে ছুটি কাটাতে যান না। কারণ, সকলে মিলে আবাসনেই পুজোর আনন্দ উপভোগ করেন। পুজো শেষে আবাসিকরা পংক্তি ভোজন সারেন। পাশাপাশি পুজোর কটা দিন চলে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, নবমীতে এখানে সন্ধিপুজোয় বিরাট যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। সবমিলিয়ে পুজোর সময়ে জমজমাট থাকে গোটা আবাসন চত্বর।
মহেশমাটির প্রবীণ আবাসিকরা জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ বছর আগে আবাসনের আশপাশের এলাকা ঝোপঝাড়ে ভরা ছিল। এমনকী, বন্য জন্তুরও উপদ্রব ছিল এখানে। সঙ্গে ছিল নানা ধরনের অসুখ। আবাসিকদের দাবি, সেই সময়ে সরকারি কর্মচারীদের একাংশ 'স্বপ্নাদেশ' পান। তার পরেই আবাসনে শুরু হয় দুর্গাপুজো। প্রবীণদের কথায়, 'পুজোর কটাদিন যেন মনে হয় স্বয়ং দেবী দুর্গা আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন।'
আবাসনের পুজো কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস এবং সভাপতি অসীম সাহা জানিয়েছেন, আবাসিকদের আর্থিক সাহায্যেই এখানে পুজো হয়ে আসছে। দু'বছর পরে তাঁরা আরও ধুমধাম করে সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ পালন করবেন। এ বছর সাবেকি দুর্গা প্রতিমা গড়ছেন বিশ্বনাথ পাল। সেবাইত রয়েছেন প্রশন গোস্বামী।
বিশ্বজিৎ বলেন, 'ছোটদের নিয়ে আবৃতি এবং ক্যুইজ প্রতিযোগিতা, রবীন্দ্র সঙ্গীতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সফল প্রতিযোগীদের দেওয়া হবে পুরস্কার। পুজোর জোগাড়ের সমস্ত দিকটাই দেখেন মহিলারা।' দশমীতে আবাসনের পুরুষ, মহিলা সকলে মিলে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিসর্জনে সামিল হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।