নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী একযোগে খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে তথ্য সংগ্রহকারীরা গতকাল থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করছেন। তারা বিশেষায়িত ট্যাবলেট এবং নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসে যুক্ত করছেন। এ জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভাণ্ডারের
তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
পাইলটিংয়ের সফল বাস্তবায়ন ও বর্তমান বরাদ্দ : সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য নেওয়া হয়। এর মধ্য থেকে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য নারীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাইলটিংয়ে বরাদ্দকৃত ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হয় (যার ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকাই গেছে ভাতা হিসেবে)।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়নে মোট ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হবে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ পরিবারের নারী প্রধানকে কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য নারীকে এর আওতায় আনা হবে।
যোগ্যতা নির্ধারণ ও পিএমটি পদ্ধতি : পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদকৃত পিএমটি স্কোর অনুযায়ী দেশের সব পরিবারকে পাঁচটি শ্রেণিতে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) ভাগ করা হয়েছে। পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণে যেসব নারী প্রধানের পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম হবে, তারা ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে, দেশের সব পরিবারের নারী প্রধানকেই প্রতীকী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, কিন্তু আর্থিক ভাতা পাবেন প্রথম তিনটি ক্যাটাগরির (অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত) অন্তর্ভুক্তরা।
স্মার্ট কার্ডে ‘টাকাপে’ সুবিধা : উপকারভোগী নারীদের জন্য তৈরি ফ্যামিলি কার্ডটিতে থাকবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি— ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা। কার্ডটি জাতীয় পেমেন্ট গেটওয়ে ‘টাকাপে’ (ঞধশধচধু) ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে নারীরা এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিন কিংবা এমএফএসের মাধ্যমে সহজে ও নিরাপদে ভাতার অর্থ তুলতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সমাজকল্যাণসচিব ড. মো. আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
