সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার তেলকুপি গ্রামের কলেজছাত্র কামরুল ইসলাম অনিক তার বাবার কাছে সন্তানের স্বীকৃতি দাবি করছে। তার বাবা সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রহমতগঞ্জ মহল্লার বাসিন্দা খুরশিদ জিন্নাহ ওরফে কার্বন। তিনি একই এলাকার গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনিক মাতৃগর্ভে থাকাকালেই তার মাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন বাবা। মা হাফিজার দৃঢ়তায় পৃথিবীর আলো দেখলেও আজও বাবার কাছে সন্তানের স্বীকৃতি পায়নি অনিক। সে আট মাসের মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় স্থানীয় মাতব্বরদের নিয়ে ঘরোয়া সালিশের মাধ্যমে তার মাকে তালাক দেন বাবা। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখেননি তিনি।
অসহায় মা গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে অনিককে লেখাপড়া করিয়েছেন। বর্তমানে অনিক কলেজের শিক্ষার্থী হলেও এখনো বাবার কাছে সন্তানের স্বীকৃতি দাবি করছে।
অনিক জানায়, অন্য সবার বাবা স্কুলে এসে সন্তানদের টাকা দেন। কিন্তু সে বাবার কোনো আদর-স্নেহ পায়নি, এমনকি তার খোঁজখবরও নেওয়া হয়নি। এ আক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে অনিক।
সে আরও জানায়, মায়ের কাছে শুনেছে, তার বাবা-মায়ের মধ্যে এখন আর সম্পর্ক নেই। ছোটবেলা থেকে মামার বাড়িতে বড় হয়েছে এবং মামাকেই বাবা বলে ডেকেছে। এখন সে বড় হয়েছে, তাই তার বাবার পরিচয় প্রয়োজন। তবে তার বড় চাচা ছোটবেলা থেকেই তাকে দেখতে আসেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। বড় চাচা তাকে খুব ভালোবাসেন বলেও জানায় অনিক।
এ বিষয়ে অনিকের মা হাফিজা বলেন, কার্বনের বাড়ির কাছে তার প্রথম বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কয়েক বছর পর তার স্বামী মারা যান। এরপর কার্বনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাদের বিয়ে হয়। তবে কার্বনের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। এ কারণে তিনি বাবার বাড়িতে কার্বনের সঙ্গে সংসার শুরু করেন।
হাফিজা জানান, কার্বন পঞ্চগড়ে গ্লোব এগ্রো কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সেখান থেকে সরাসরি তার কাছে আসতেন। এভাবে টানা ছয় বছর তারা সংসার করেন। এরপর কার্বন পঞ্চগড়ে আরেকটি বিয়ে করেন। বিষয়টি জানার পর তিনি কার্বনের কর্মস্থলে অভিযোগ জানান। এতে কার্বনসহ তার অফিসের জড়িত কয়েকজন সহকর্মী চাকরিচ্যুত হন বলে দাবি করেন হাফিজা।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে করার পরও তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ছিল। এরই মধ্যে তিনি গর্ভবতী হন। বিষয়টি কার্বনকে জানানোর পর তিনি বারবার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু তিনি সন্তানকে হত্যা করতে রাজি হননি।
হাফিজার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে অনিকের জন্ম হয়। কিন্তু ২২ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত একবারের জন্যও তার বাবা সন্তানকে দেখতে আসেননি। এখন ছেলের পিতৃপরিচয় প্রয়োজন।
হাফিজা জানান, ছেলের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে ২০২২ সালে সিরাজগঞ্জ আদালতে কামরুল ইসলাম অনিককে বাদী করে তিনি মামলা দায়ের করেন। তিন বছর ধরে মামলাটি চললেও এখনো তারা ন্যায়বিচার পাননি। ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু বারবার তারিখ পড়লেও ডিএনএ পরীক্ষা করানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে খুরশিদ জিন্নাহ ওরফে কার্বন বলেন, বিষয়টি যেহেতু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন বিজ্ঞ আদালত। তার সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
