নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কঠিন পরীক্ষার আগে কোনো ঝুঁকিই নিতে চান না ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল। আসন্ন টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিতে এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। নিজের খরচে চার থেকে পাঁচজন নেট বোলারকে নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। সিরিজ শুরুর আগেই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ব্যাটিংয়ের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি না রাখাই তার মূল পরিকল্পনা।
বিদেশ সফরে সাধারণত দলের সঙ্গে নেট বোলার পাঠানোর ব্যবস্থা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তবে এবার বোর্ডের ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বোলার নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভমান গিল। এসব বোলার অনুশীলনে মূলত তাঁকেই বল করবেন, যাতে আসন্ন চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারেন ভারত অধিনায়ক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইয়ের বরাতে জানা গেছে, ব্যস্ত সূচির কারণে নিউজিল্যান্ড সফরে ভারত ‘এ’ দলের টেস্ট ম্যাচগুলোতে খেলবেন না গিল। তাই দলের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে আগেভাগেই নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। আগামী ২৩ বা ২৪ অক্টোবর দেশ ছাড়তে পারেন এই তারকা ব্যাটার। সফরে সঙ্গে থাকা নেট বোলারদের যাবতীয় খরচও বহন করবেন তিনি নিজেই।
নিউজিল্যান্ডের পেস-সহায়ক কন্ডিশনে ব্যাটসম্যানদের জন্য অপেক্ষা করে কঠিন পরীক্ষা। সুইং, বাউন্স ও গতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সেখানে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বাড়তি প্রস্তুতির পথে হাঁটছেন গিল। নিজের পছন্দমতো বোলারদের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় অনুশীলনের সুযোগ পেলে ম্যাচের আগে প্রস্তুতিতে বাড়তি সুবিধা মিলবে তার।
চলতি বছরের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন গিল। সিরিজে ৭৫৪ রান করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। এবার নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই তাঁর লক্ষ্য।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পেসারদের সামলাতে শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে ভারতীয় ব্যাটারদের। তাই শুধু দলের সঙ্গে অনুশীলন নয়, ব্যক্তিগতভাবে বাড়তি সময় ব্যাটিং ঝালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন গিল। আগেভাগে দেশটিতে পৌঁছে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি লাল বলের ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগও পাবেন তিনি।
সামনে ওয়ানডে ও টেস্ট, দুই সংস্করণেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অপেক্ষা করছে গিলের জন্য। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি টেস্টেও ভারতের অধিনায়কত্ব করবেন তিনি। ফলে ব্যক্তিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি দলের সাফল্যেও তাঁর পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
