সাধারণ মানুষের আয় কমছে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা জরুরি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম এবং অসৎ সিন্ডিকেটের কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর অবস্থা গভীর সংকটে। প্রতিদিনই তাদের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, পুষ্টি, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো কাটছাঁট করতে হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে এ সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করছে। ফলে দেশে দিন দিন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর। উচ্চ মূল্যস্ফীতি কেবল দৈনন্দিন বাজারেই আঘাত হানছে না, বরং ব্যাংক ডিপিএস, পেনশন ও সঞ্চয়পত্র ভাঙতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মূল্যস্ফীতির এই লাগামহীন দৌড় এবং গাণিতিকভাবে প্রকৃত আয়ের পতন রোধে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাত উভয় ক্ষেত্রেই বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাগজে-কলমে মূল্যস্ফীতি কম দেখালেও কার্যত টানা তিন বছর ধরে তা ১০ শতাংশ বা এর বেশি। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯- ১০ শতাংশ বা তার ওপরে থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের উপার্জন বাড়েনি। ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় এবং পণ্য বা সেবা কেনার ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমেছে। এখন অনেকের সঞ্চয় দূরের কথা, দৈনন্দিন পুষ্টিতেও বড় ধরনের কাটছাঁট করতে হচ্ছে। আবার অনেকেই ব্যয় মেটাতে ঋণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে জিডিপিতে মোট ভোগ ব্যয়ের হার ৭৪ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৮ দশমিক ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ভোগ ব্যয় বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে কয়েক বছর ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। টানা চার বছর ধরে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সর্বশেষ আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচের চাপ বেড়েছে। ফলে আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে ভোক্তাদের সঞ্চয়ের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে নানাভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের দিনমজুর, কৃষি ও নির্মাণশ্রমিকরা। এ অবস্থায় বেতন বাড়ুক না বাড়ুক, দ্রুত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে নাগরিকদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করাই এখন অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই সাধারণ মানুষের ওপর থেকে চাপ দূর করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান সময়ে অসাধু সিন্ডিকেট দমন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরা পুরো বাজারব্যবস্থাকে কঠিন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেবল মুদ্রানীতি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে হবে। দেশে দরিদ্রের সংখ্যা বাড়ছে; যা খুবই উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহের পরিধি আরও বাড়াতে হবে। আশা করছি, সরকার সাধারণ মানুষের নীরব সংকোচন অবস্থা আমলে নিয়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন
নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে তুলকালাম প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০০ পিএম
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে রাজধানীর ৯৫টি কেন্দ্রে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। গত শনিবার পরীক্ষা শুরুর মুহূর্তে হঠাৎ বাতিল হওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। পরীক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে পড়েন। এতে সড়কে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। অনেক স্থানে যানজট হয়। মাত্র ২৪২ পদের জন্য প্রায় ৩ লাখ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারায় সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তারা। বিক্ষোভ জানাতে তাদের একটি অংশ রাজধানীর সড়ক অবরোধ করেন। চাকরিপ্রত্যাশীদের চাপে কর্তৃপক্ষ নতুন করে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
চাকরিপ্রত্যাশীদের মতে, শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের খবরে তারা মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকে ধারদেনা করে দূর-দূরান্ত থেকে রাজধানী ঢাকায় এসেছেন পরীক্ষায় অংশ নিতে। তারা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, প্রশ্নপত্রের অন্তত চারটি সেট তৈরি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের মতো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশ্ন প্রণয়ন এবং পরীক্ষা স্থগিত হলে অন্তত ১০ দিন আগে পরীক্ষার্থীদের জানানোর ব্যবস্থা করা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন কীভাবে ফাঁস হয়েছে, তা অনুসন্ধান করা জরুরি। তথ্য বলছে, রাজধানীর দিলকুশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের একটি কক্ষে সারা রাত প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপানোর কাজ চলে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই কক্ষেই ছিলেন। নিয়োগ কমিটির পাঁচ সদস্য প্রশ্নপত্র তৈরি করেন। তাদের কাজে সহায়তা করার জন্য কক্ষটিতে ছিলেন ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের ২০ জন কর্মী। তাদের সবার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। এর পরও রাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এত গোপনীয়তার মধ্যেও কীভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো। এ জন্য নিয়োগ কমিটির সদস্য নাকি প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাজে যুক্ত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা দায়ী। নাকি এর মধ্যে অন্য কোনো দুর্বলতা ছিল–বিষয়গুলো জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখতে হবে। জানা গেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও কাজ করছে। প্রশ্নপত্রের যে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে স্পষ্ট হয়েছে একজনের হাতের ওপর রেখে প্রশ্নপত্রের ছবিটি তুলেছেন। সেখানে কারও আঙুলের সামান্য অংশও স্পষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাই শুধু প্রশাসনিক তদন্তে সীমাবদ্ধ না থেকে ফৌজদারি মামলা করে অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তকাজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যারা এ অপরাধে যুক্ত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি চাকরির জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিতে হলে একজন প্রার্থীর দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। দূরবর্তী জেলা থেকে যারা ঢাকায় আসেন, তাদের ব্যয় অনেক বেশি। নতুন তারিখে আবার পরীক্ষা দিতে হলে একই ধরনের ব্যয় ও প্রস্তুতি প্রয়োজন। চাকরির পরীক্ষাগুলো বিভাগীয় পর্যায়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা যদি প্রায়ই ঘটে, সে ক্ষেত্রে তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়বে। চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে প্রতিবাদ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে তারা প্রতিবাদ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। এমন ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর পেছনে অর্থ লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে। একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য সরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে, এটাই প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন
এইডস নিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে দেশ প্রতিরোধ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিন
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘ-ঘোষিত বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। ২০২৫ সালের মধ্যে এইচআইভি শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ৯৫-৯৫-৯৫ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কথা থাকলেও তিনটি সূচকের কোনোটিতেই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। দেশের সম্ভাব্য এইচআইভি আক্রান্তদের মাত্র ৬৯ শতাংশ শনাক্ত হয়েছেন। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে চিকিৎসার আওতায় এসেছেন ৭১ শতাংশ। আর চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের ৮৯ শতাংশের ভাইরাল লোড নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অর্থাৎ প্রথম ধাপে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৪ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থায়নের সংকট। দেশের এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচির বড় অংশ পরিচালিত হয় দ্য গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে। এর বাইরে সরকারের অপারেশন প্ল্যানের মাধ্যমেও কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হতো। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সাল পর্যন্ত চতুর্থ অপারেশন প্ল্যানের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু অপারেশন প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসূচির আওতা সংকুচিত হয়েছে। অথচ এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক উদ্যোগের বিকল্প নেই। অর্থের অভাবে পরীক্ষা, কাউন্সেলিং, চিকিৎসা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম সংকুচিত হলে দীর্ঘদিনের অগ্রগতিও ব্যাহত হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি কর্মসূচির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে গত কয়েক বছরে নতুন এইচআইভি শনাক্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। দেশের ১২টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগার হাসপাতালে বন্দিদের মধ্যেও এই সংখ্যা বেড়েছে। তবে পরীক্ষার পরিধি বৃদ্ধি, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অধিকসংখ্যক পরীক্ষা পরিচালনার কারণেও শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। তাই এই বৃদ্ধিকে শুধু সংক্রমণ বিস্তারের সূচক হিসেবে দেখলে চলবে না। একই সঙ্গে কত মানুষ পরীক্ষার বাইরে রয়েছেন এবং শনাক্ত হওয়ার পর কতজন নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের পথে বড় বাধা সামাজিক বৈষম্য ও কলঙ্কের ভয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজড়া জনগোষ্ঠীর অনেকে পরিবার ও সমাজে বৈষম্যের শিকার হন। হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাদের অপমানজনক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেকে সংক্রমণের বিষয়টি গোপন করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে দূরে থাকেন। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এইচআইভি শনাক্ত হওয়ায় তাদের জন্যও পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, পরীক্ষাবিহীন রক্ত সঞ্চালন, একই সুই বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার এবং আক্রান্ত মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ–এসব ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। যৌনকর্মী, পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকারী পুরুষ, হিজড়া জনগোষ্ঠী ও শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের জন্য সহজলভ্য, গোপনীয়তা-সুরক্ষিত ও বৈষম্যহীন সেবা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু রোগ শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত চিকিৎসা, ভাইরাল লোড পরীক্ষা এবং কাউন্সেলিংয়ের সুযোগও নিশ্চিত করা জরুরি।
৯৫-৯৫-৯৫ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হলেও এইডস নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই; বরং অর্থায়নের ঘাটতি পূরণ, সরকারি কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা, বিদেশি সহায়তার বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে বিনিয়োগ কমানো যাবে না। কারণ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা অনেক বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা জানান, পরীক্ষা, দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ–চার ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
আরও পড়ুন
এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তির স্বচ্ছতা ও শ্রমিক সুরক্ষা জরুরি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশের ১৫ বছরের চুক্তি হয়েছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে টার্মিনালের আধুনিকায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে চুক্তির স্বচ্ছতা, জাতীয় নিরাপত্তা, শ্রমিকদের অধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
চুক্তি অনুযায়ী, এনসিটির জমি, অবকাঠামো ও মালিকানা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। নিরাপত্তা, শুল্ক, অভিবাসনসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দায়িত্বও সরকারের হাতে থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টার্মিনাল পরিচালনা করবে। অর্থাৎ, এটি টার্মিনাল বিক্রি বা স্থায়ীভাবে হস্তান্তরের চুক্তি নয়। প্রথম ১০ বছরে আধুনিকায়ন, নতুন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পাশাপাশি চুক্তির শুরুতে সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি পাবে।
নিশ্চিতভাবেই চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। বৈশ্বিক বন্দর দক্ষতার সূচক ২০২৫ অনুযায়ী, ৮০০টি কনটেইনার বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৩৬৪তম। এখানে একটি কনটেইনার গড়ে ৯ দিনের বেশি পড়ে থাকে, যেখানে তুলনীয় অনেক বন্দরে তা দুই দিনেরও কম। এই দীর্ঘসূত্রতা আমদানি-রপ্তানির ব্যয় বাড়ায়, ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমায় এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
কিন্তু দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা কোনো চুক্তির শর্ত, পদ্ধতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। আন্তর্জাতিক দরপত্রের স্বচ্ছতা, আর্থিক শর্তের যৌক্তিকতা এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়গুলো জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া জরুরি। ১৫ বছরের মতো দীর্ঘ মেয়াদের চুক্তিতে ভবিষ্যৎ আয়, পরিচালন ব্যয়, মুনাফা বণ্টন, কর্মসংস্থান এবং বিরোধ নিষ্পত্তির শর্তগুলো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অগ্রিম ফি বা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিই কোনো চুক্তির সার্বিক লাভজনকতার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
এদিকে বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নগুলো এই চুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব গেলে দেশি শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সংকুচিত হতে পারে। এ আশঙ্কা দূর করতে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি, প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা থাকা দরকার। একই সঙ্গে বিদেশি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তা ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, তা স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা উচিত।
চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি কৌশলগত অবকাঠামো। ফলে বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক দক্ষতা কাজে লাগানোর উদ্যোগকে যেমন অযৌক্তিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়, তেমনি বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে সব প্রশ্নের অবসান ঘটেছে বলেও ধরে নেওয়া যায় না। সরকারের উচিত চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশ, স্বাধীন নিরীক্ষা ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং শ্রমিকদের উদ্বেগের বাস্তবসম্মত সমাধান করা।
উন্নত বন্দর অর্থনীতির গতি বাড়ায়। কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফল হতে হবে জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে। এনসিটি চুক্তির সাফল্য কেবল বিনিয়োগের অঙ্কে নয়; বরং বন্দর কতটা দক্ষ হলো, ব্যয় কতটা কমল, শ্রমিকদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকল এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ কতটা অক্ষুণ্ন রইল–তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
আরও পড়ুন
জিনগত সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করুন বাকৃবির গবেষণা প্রশংসনীয়
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল চৌকস গবেষক তাদের গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন। বিলুপ্তপ্রায় দেশি ধান, ফল ও মাছ সংরক্ষণে তাদের গবেষণার মাধ্যমে দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
এসব সম্পদের জিনগত বৈচিত্র্য ভবিষ্যৎ কৃষির জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ ও অর্থনীতির জন্য বড় শক্তি। আমরা মনে করি, বাকৃবির গবেষকদের গবেষণা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাদের গবেষণার ফল একসময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আমাদের দেশের অনেক সম্পদ নষ্ট হতে বসেছে। লবণাক্ততা, অতিরিক্ত বন্যা, খরা ও নানাবিধ রোগবালাইয়ের কারণে ইতোমধ্যে অনেক ফসল নির্দিষ্ট মাটিতে টিকে থাকার সক্ষমতা হারিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এগুলো সংরক্ষণ বা ধরে রাখতে না পারলে অনেক সম্পদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন জাত উদ্ভাবনের সময় জলবায়ুজনিত পারিপার্শ্বিক অবস্থা এগুলো দক্ষভাবে বিবেচনা করা হয়। কারণ স্থানীয় জাতগুলোতে এক রকম বা একই বৈশিষ্ট্যের না-ও হতে পারে; অর্থাৎ জিনগত পার্থক্য থাকতে পারে। আর এই বৈচিত্র্যই ভবিষ্যৎ প্রজনন কর্মসূচির কাঁচামাল। গবেষকরা বিভিন্নভাবে এই সম্পদ বিশ্লেষণ করছেন। কোন জাতের ফলন ভালো, কোন জাতের গাছ খাটো, কোনটি দ্রুত পরিপক্ব হয়, কোনটি আবার নির্দিষ্ট পরিবেশে তুলনামূলক টিকে থাকে। এসব বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় করে ভবিষ্যতে নতুন জাত সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগেই সেই বৈচিত্র্য ধরে রাখার চেষ্টায় রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ শুধু পুরোনো দিনের ধান, ফল ও মাছকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াতে থাকায় স্থানীয় জিনগত বৈচিত্র্যের এক ভবিষ্যৎ সুরক্ষা। কোনো স্থানীয় ধানে যদি লবণাক্ততা সহ্য করার ক্ষমতা থাকে, কোনো ফলে যদি খরা বা নির্দিষ্ট পরিবেশে টিকে থাকার বৈশিষ্ট্য থাকে কিংবা কোনো দেশি মাছ যদি অল্প খাবারে টিকে থাকতে পারে, তাহলে সেই বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যৎ কৃষি ও জলজ উৎপাদনব্যবস্থায় কাজে লাগানো সম্ভব।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা স্থানীয় ধানের হারিয়ে যাওয়া বৈচিত্র্যকে গবেষণার আওতায় এনেছেন; যা খুবই জরুরি ছিল। কারণ অনেক অঞ্চলে একসময় পরিবেশ ও কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী অসংখ্য স্থানীয় ধানের জাত চাষ হতো; যা আস্তে আস্তে বিলীন হতে বসেছে। তাই গবেষকদের কাছে জার্মপ্লাজম সংরক্ষণকে কৃষকের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করাই পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
শুধু ধান নয়, ফলের ক্ষেত্রেও বিপুল বৈচিত্র্য সংরক্ষিত হয়েছে। উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চল থেকেও গবেষকরা নানা ফলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করেছেন। তারা এসব জার্মপ্লাজমের গঠন, রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও পুষ্টিমানও পরীক্ষা করছেন। এগুলো পুষ্টি ও ভবিষ্যৎ কৃষির সম্ভাব্য সম্পদও।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সুরক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এতে দেশের কৃষি অর্থনীতিও পাকাপোক্ত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত, রোগবালাই ও পরিবেশগত পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ ধরনের কার্যক্রম দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা যে কাজটি করেছেন, সেটি দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।
তারা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর গবেষণার মাধ্যমে এর সুফল যাতে দেশের তৃণমূল বা প্রান্তিক পর্যায় থেকে দেশব্যাপী পৌঁছে দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা যাতে উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি খাদ্যের পুষ্টিমান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। সে জন্য সংরক্ষিত জিনগত সম্পদের টেকসই ব্যবহার জরুরি। এ ব্যাপারে সরকার সময়োপযোগী কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
