প্রয়াত সুরকার দেবা।ছবি: সংগৃহীত
Published on
:
2 min read
তামিল তথা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের একটি অধ্যায় শেষ হলো। চেন্নাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে শনিবার, ১৭ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক দেবনেসন চোক্কালিঙ্গম। বিনোদন জগতে যদিও তিনি ‘দেবা’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে ঘনিষ্ঠসূত্রে খবর। যদিও হাসপাতাল বা পরিবারের তরফে এই নিয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তাঁর প্রয়াণের খবরে স্তম্ভিত দক্ষিণী সিনেমা মহল ও কোটি কোটি অনুরাগী। চেন্নাইয়ের টি নগরে দেবা-র বাসভবনে রাখা থাকবে তাঁর নশ্বর দেহ রাখা থাকবে, যাতে প্রিয়জন, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও ভক্তরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
চেন্নাইয়ের লোকসঙ্গীতের ঐতিহ্য ‘গানা’-কে মূল ধারার সিনেমায় জনপ্রিয় করে তোলার মূল কৃতিত্ব ছিল দেবা-র। চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি তামিল, কন্নড়, তেলুগু ও মালয়ালম মিলিয়ে ৪০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত ও আবহ সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। বিশেষ করে সুপারস্টার রজনীকান্তের সিনেমার শুরুতে দেখানো বিশ্বখ্যাত ‘টাইটেল কার্ড’-এর যে আইকনিক থিম মিউজিক বাজানো হয়, তার রূপকারও ছিলেন দেবা। রজনীকান্তের ‘অন্নামলাই’ ও ‘বাশা’ থেকে শুরু করে অজিত-বিজয়দের যুগের একাধিক ব্লকবাস্টার ছবিতে তাঁর সুর চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
ধনরাজ মাস্টারের কাছে পিয়ানো (যাঁর কাছে ইলাইয়ারাজাও তালিম নিয়েছিলেন) এবং জেবি কৃষ্ণের কাছে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছিলেন দেবা। শুরুর দিকে সিনেমায় কিছুটা ধাক্কা খাওয়ার পর তিনি দূরদর্শন পোধিগাইয়ের ‘ভায়ালুম ভাজভুম’ অনুষ্ঠানের জন্য সুর করতেন। ১৯৮০-র দশকে বেশ কিছু বিখ্যাত ভক্তিমূলক অ্যালবামেও কাজ করেন তিনি। তাঁর দুই ভাই সবনেশ ও মুরালি ইলাইয়ারাজা-সহ একাধিক বড় পরিচালকদের সঙ্গে বাজাতেন এবং দেবাকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠা পেতে দারুণ ভাবে সাহায্য করেছিলেন।
১৯৮৬ সালে ‘মাতুক্করা মান্নারু’ ছবির মাধ্যমে সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ১৯৮৯ সালের ‘মনসুক্কেথা মহারাসা’ এবং পরবর্তীতে ‘ভাইগাসি পোরান্থাচু’ ছবিগুলির মাধ্যমে তিনি বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করার ব্রেক পান ও সাফল্য অর্জন করেন। তাঁর প্রয়াণে কমল হাসান থেকে শুরু করে বিজয় সেতুপতি, খুশবু সুন্দর-সহ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।