হ্যাকাথনের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর ই-হেলথ কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করলে অনেকেই আলাদাভাবে বিভিন্ন ধারণা নিয়ে আসেন। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগগুলো আলাদা গণ্ডিতে আটকে থাকে। পরে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হয়। তাই ডিজিটাল ব্যবস্থার বিভিন্ন বিভাগকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের সমন্বিত স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা, এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ‘ই-হেলথ কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় হ্যাকাথনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তরে তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হ্যাকাথনে নিবন্ধন চলবে এক মাস। বাছাই শেষে নির্বাচিত দলগুলোকে নিয়ে ঢাকায় তিন দিনব্যাপী বুটক্যাম্প আয়োজন করা হবে। সেখানে দেশী-বিদেশী প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেবেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অংশীদারত্বে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
হ্যাকাথনের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর ই-হেলথ কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করলে অনেকেই আলাদাভাবে বিভিন্ন ধারণা নিয়ে আসেন। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগগুলো আলাদা গণ্ডিতে আটকে থাকে। পরে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হয়। তাই ডিজিটাল ব্যবস্থার বিভিন্ন বিভাগকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হলে নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা নেয়া, ওষুধ কেনা ও পরীক্ষার তথ্য নিয়মিত সেখানে যুক্ত হবে। এই বিপুল তথ্যভাণ্ডার স্বাস্থ্য গবেষণার বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। বৈশ্বিক বিভিন্ন কোম্পানিও এ ধরনের তথ্যভাণ্ডারে বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্রশিক্ষণ মডেলে এসব তথ্য ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশের সার্বভৌমত্ব, তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।
তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই জাতীয় পর্যায়ে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান ড. মুহিত। তিনি দেশের সব অঞ্চলের তরুণ উদ্ভাবকদের স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল সমাধানের ধারণা নিয়ে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। আগামী এক মাস হ্যাকাথনের নিবন্ধন চলবে।
নিবন্ধন ও বাছাই প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত দলগুলোকে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় তিন দিনব্যাপী নিবিড় বুটক্যাম্প আয়োজন করা হবে। সেখানে দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তরুণদের সরাসরি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিক ধারণাগুলোকে কার্যকর ও টেকসই সমাধানে রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে তদবির ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ কমিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো তরুণের উদ্ভাবনী ধারণাও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
আশিক চৌধুরী আরো বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাজারের আকার আনুমানিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে এ বাজারের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা যায়নি। স্বাস্থ্য খাত ডিজিটাল করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা গেলে দেশী-বিদেশী বড় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক দিল আফরোজা, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালয় আহমাদজাই, এডিএন টেলিকম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননুর এবং বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অপারেশনস কর্মকর্তা ইফফাত মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন ইন্টারস্পিড অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের গ্রুপ ডিরেক্টর আদনান করিম এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মানাল মিজানুর রহমান।
