টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীর জবানবন্দি, কারাগারে উপাধ্যক্ষ
গাজীপুরের টঙ্গীতে যৌন নিপীড়নের মামলায় সাত বছর বয়সি এক মাদ্রাসাছাত্রী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার আসামি উপাধ্যক্ষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসা ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে পাল্টা মামলাও হয়েছে।
অন্যান্য
জার্নাল ডেস্কযৌন নিপীড়নের অভিযোগের মামলায় গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সি এক মাদ্রাসাছাত্রী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই ঘটনায় টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম উদ্দিনকে (৩০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফ হোসেন বলেন, শিশুটি বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে। একই দিন শিশুটির বাবার করা মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শিশুকে যৌন নিপীড়ন এবং শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় দুটি মামলা হয়েছে।
ওসি আরিফ হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দুটি ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভেতরে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেন তিনি। এ হুমকিতে শিশুটি মারাত্মক আতঙ্কে পড়ে যায় এবং টানা তিন দিন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া শারীরিক হেনস্থার কথা বাবা-মায়ের কাছে প্রকাশ করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
বুধবার দুপুরে শিশুটির বাবা সরাসরি মাদ্রাসায় গিয়ে উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে জবাব চান। তখন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আরও কিছু মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা শিক্ষককে মুষ্টিঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজনও শিক্ষককে মারধর করেন। এ সময় মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকেরা তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষককে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
পরে শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তার বাবা এবং শিক্ষককে আঘাত ও ভাঙচুরের ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক মামলা করেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলায় হামলা-ভাঙচুরের সময় ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগও আনা হয় শিশুটির বাবা ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনের বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ বারীজুল আলমগীর হোসেন দাবি করেছেন, “এক অভিভাবকের নেতৃত্বে ১৫ জনের একটি দল মাদ্রাসায় প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর, শ্লীলতাহানি এবং প্রায় ১৭ লাখ টাকা লুট করেছে।”
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন অধ্যক্ষ বারীজুল আলমগীর।
তবে শুক্রবার গভীর রাতে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। নিজের বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি করতে নয়, বরং মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন।
পাশাপাশি টাকা লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং মেয়ের ঘটনার বিচার দাবি করেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম