আজকের ভোলা রিপোর্ট ॥
খুদ্দামুল কুরআন বাংলাদেশ ভোলা জেলা শাখার উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক শিশুর মাঝে পবিত্র আল-কুরআন বিতরণ ও কুরআনুল কারিমের সবক প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোলার খলিফাপট্টি মসজিদে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিশুদের কুরআন শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, দ্বীনি শিক্ষার প্রসার এবং ইসলামী আদর্শে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শিশু ও ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুদ্দামুল কুরআন বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরিচালক মুফতি বখতিয়ার হোসেন সরদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুদ্দামুল কুরআন বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের বরিশাল বিভাগীয় জিম্মাদার মাওলানা জামাল উদ্দিন ফারুকী এবং ভোলা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুদ্দামুল কুরআন বাংলাদেশ ভোলা জেলা শাখার জিম্মাদার মুফতি আবুল বাশার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোলা সদরের আমিনুত তালিম মাওলানা শরিফ বিন রফিক।
শিশুদের ঈমান-আকিদা রক্ষায় দ্বীনি শিক্ষার বিকল্প নেই
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মুসলিম শিশুদের ঈমান-আকিদা, নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধ গঠনে পবিত্র কুরআন শিক্ষা ও মক্তবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় মুসলিম পরিবারের শিশুরা নিয়মিত মক্তবে গিয়ে কুরআন শিক্ষা অর্জন করত। কিন্তু বর্তমানে অনেক শিশু বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত কুরআন শিক্ষা ও দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কিন্ডারগার্টেটে শিশুদের পড়াশোনার প্রবণতা বাড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা, ঈমান-আকিদা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার যথাযথ সুযোগ রয়েছে কি না, তা অভিভাবকদের সচেতনভাবে বিবেচনা করা উচিত। শিশুদের যেন শৈশব থেকেই ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শ থেকে দূরে সরে যেতে না হয়, সে বিষয়ে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তাঁরা বলেন, সন্তানদের আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি পবিত্র কুরআন, ইসলামী আদব-আখলাক ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলা প্রত্যেক মুসলিম অভিভাবকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কারণ, প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে শুধু জ্ঞানী করে না; বরং সৎ, নীতিবান, মানবিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলে।
![]()
কুরআনের আলোয় আলোকিত হোক আগামী প্রজন্ম
বক্তারা বলেন, পবিত্র আল-কুরআন মানবজাতির জন্য হেদায়েতের উৎস। শৈশব থেকেই শিশুদের কুরআন শিক্ষার সঙ্গে স¤পৃক্ত করা গেলে তাদের মধ্যে আল্লাহভীতি, সত্যবাদিতা, নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্র গঠনের পথ সুগম হয়। তাই প্রতিটি মুসলিম পরিবারে কুরআন শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এবং মসজিদভিত্তিক মক্তব ও দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সময়ের দাবি।
তাঁরা আরও বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে আলেম-ওলামা, মসজিদের ইমাম, মক্তবের শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
কুরআন শিক্ষার প্রসারে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিশুর মাঝে পবিত্র আল-কুরআন বিতরণ ও কুরআনুল কারিমের সবক প্রদানের মাধ্যমে শিশুদের দ্বীনি শিক্ষার পথে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আয়োজকদের এ উদ্যোগকে কুরআন শিক্ষার প্রসার এবং আগামী প্রজন্মকে ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বক্তারা এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং শিশুদের মাঝে কুরআন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।
