Published on
:
2 min read
মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরে একাধিকবার কঠিন সময় কাটিয়েছেন যুজ়বেন্দ্র চাহাল। ধনশ্রী বর্মাকে ধুমধাম করে বিয়ে করার পর সেই বিয়ে ভেঙেছে। শুধু বিবাহবিচ্ছেদই নয়, তার পর আরজে মাহবাশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। চাহাল অবশ্য এইসব বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে অবসর জীবন পালন করছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে এই চড়াই উতরাই তাঁকে মানসিক দিক থেকে ভেঙে দিয়েছিল, এ বার সেই বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার ও ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়ার ইউটিউব পডকাস্টে এসে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলির কথা তুলে ধরেন IPL-এর সর্বকালের সফলতম বোলার। ২০২৫ সালের মার্চে কোরিওগ্রাফার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ধনশ্রী বর্মার সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ মাস আলাদা থাকার পর বিবাহবিচ্ছেদের আইনি সিলমোহর পড়ে চাহালের। একজন সেলিব্রিটি হিসেবে এই ব্যক্তিগত ভাঙন চারপাশের মানুষের কাছে একপ্রকার মুখরোচক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।
‘সবসময় চর্চায় পাবলিক ফিগারের জীবন’
চাহাল বলেন, ‘একজন পাবলিক ফিগার হলে আপনার জীবনের প্রতিটি ঘটনাতেই সাধারণ মানুষ মতামত দেওয়ার অধিকার পেয়ে যায়। এই পরিস্থিতিটা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিত এবং আমার খেলাকেও ক্ষতি করছিল। ২০২৪-২৫ ঘরোয়া মরশুমে হরিয়ানার হয়ে সাদা বলের মাত্র দুটি ম্যাচ খেলে আর টি-টোয়েন্টি খেলিনি, কারণ আমার মনের অবস্থা ঠিক ছিল না। আমি পুরো ফিট ছিলাম না এবং আমার জন্য দল ভুগুক, তা চাইনি। তাই হরিয়ানা ক্রিকেট কর্তাদের সাথে কথা বলে সাময়িক বিরতি নিই। কিন্তু একা থাকতেই উদ্বেগ আর প্যানিক অ্যাটাক শুরু হলো।’
প্যানিক অ্যাটাকের শারীরিক প্রতিক্রিয়া কতটা যন্ত্রণাদায়ক ছিল, তা বর্ণনা করতে গিয়ে চাহাল বলেন, ‘অ্যাটাকের সময় আমার মুখের আকৃতি বদলে যেত। মুখ শুকিয়ে যেত, ঠোঁট শক্ত হয়ে একদিকে বেঁকে যেত। আমি কথা বলতে পারতাম না। যে কেউ আমার মুখ দেখলেই বুঝে যেত যে আমার সঙ্গে কোনও বিপদ ঘটছে। তখনই প্রথম উপলব্ধি করলাম অ্যাংজাইটি একজন মানুষের শরীরে ঠিক কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।’
ধাক্কা সামলাতে মদ্যপান শুরু
এই মানসিক বিপর্যয় সামাল দিতে গিয়ে মদ্যপানের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় কাউন্টি ক্রিকেট খেলে ফেরার পর তিনি নিজেকে নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। বলেন, ‘ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলে ফেরার পর দেখলাম সব মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তখনই নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি হই এবং সেখানে টানা ২৬ দিন কাটাই। সেই দিনগুলো আমার ব্যক্তিগত জীবন ও চিন্তাভাবনায় বিরাট পরিবর্তন এনে দেয়। আবেগ আর মানসিকতার মধ্যে ভারসাম্য ফিরে পাই। সম্পূর্ণ মদ্যপান ছেড়ে দেওয়ার পর গত IPL-এ আমার শরীর যেন আবার সেই ৩০ বছর বয়সের মতো চনমনে হয়ে উঠেছিল—জিম করা, ফিল্ডিং ড্রিল ও কঠিন ট্রেনিংয়ে কোনও ক্লান্তি ছিল না।’
চাহাল জানান, এই কঠিন সময়ে তাঁকে নতুন করে বাঁচার পথ দেখিয়েছিলেন কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্সের একটি জীবনমুখী উক্তি। চাহাল বলেন, ‘এবি আমাকে একবার বলেছিল, জীবনের মূল চাবিকাঠি হলো ভারসাম্য রক্ষা করা। বিচ্ছেদের পর যখন সব কিছু অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছিল, তখন বুঝেছিলাম এভাবে চললে আমার সবচেয়ে ভালোবাসার জিনিস—আমার ক্রিকেটটাই ধ্বংস হয়ে যাবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষের মুখ আপনি কখনোই বন্ধ করতে পারবেন না। তাই নতুন করে শুরু করার শপথ নিই। ২০২৫ আইপিএল মেগা নিলামে পঞ্জাব কিংস যখন আমার জন্য ১৮ কোটি টাকা খরচ করল, তখন মনে হয়েছিল এই আস্থার দাম আমাকে দিতেই হবে। কেকেআরের বিরুদ্ধে ১১১ রান ডিফেন্ড করার ম্যাচে নিজের দায়িত্ব বুঝেছিলাম। এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছি।’
