এআই খাতে বড় বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে: আইএমএফ
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও এআই খাতে বড় বিনিয়োগের ফলে চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, সরকারি ঋণ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের সুফল সব দেশ সমানভাবে পাচ্ছে না বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার(১৩ অক্টোবর) আর্ন্তজাতিক সংবাদ সংস্থা রয়েটার্সে প্রকাশিত ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। গত জুলাইয়ে সংস্থাটি এ হার ৩ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছিল। ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। তবে তা ২০২৫ সালের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম।
আইএমএফের মতে, এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। এতে বিশেষ করে এআই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা উন্নত দেশ এবং প্রযুক্তিটির যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো বেশি লাভবান হচ্ছে।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ সিলভানা টেনরেইরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করে টিকে আছে। তবে এই সক্ষমতারও সীমা রয়েছে। তাই শুধু সংকট সামাল দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থনীতিকে নতুন করে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং সংঘাত আরও তীব্র হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বন্ডের সুদের হার ও সরকারি ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং এল নিনোর প্রভাবে চরম আবহাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এ ছাড়া এআই খাতে বিনিয়োগের লাভজনকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি সম্পদের মূল্যও হ্রাস পেতে পারে।
আইএমএফের উপপরিচালক পেতিয়া কোয়েভা ব্রুকস বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি মজুত জ্বালানি ব্যবহার, বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ এবং চাহিদা কমানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগ না থাকলে চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসত। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এসব পদক্ষেপের সুফল ধীরে ধীরে কমে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই খাতে বিনিয়োগের সুফল পাওয়া ও বঞ্চিত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। বর্তমানে মাত্র ৩২টি দেশ বিশ্ব অর্থনীতির মোট প্রবৃদ্ধির ৯৫ শতাংশে অবদান রাখছে। গত এপ্রিলে এ ধরনের দেশের সংখ্যা ছিল ৫৪।
গত এপ্রিলের পর থেকে ৪৭ শতাংশ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আইএমএফ। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো বেশি অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের অর্থনীতি চলতি বছর ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। গত জুলাইয়ে দেশটির অর্থনীতিতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করেছিল সংস্থাটি। এ ছাড়া ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিও চলতি বছর সংকুচিত হতে পারে।
ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিও চলতি বছর গভীর সংকটে পড়তে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশগুলোর অর্থনীতি যথাক্রমে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, ১৬ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ, ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, ২০২৬ ও ২০২৭ উভয় বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির হার অপরিবর্তিত থাকলেও আগামী বছরের জন্য তা আগের তুলনায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে। ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বৃদ্ধি, করছাড় ও এআই খাতে বিনিয়োগ মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। তবে এআই খাতের বিনিয়োগে আমদানিনির্ভরতা বেশি হওয়ায় এর সুফল কিছুটা সীমিত হতে পারে।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
