রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে কথিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চলাকালে মো. আরিফ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে মারধর ও মাথা ফাটানোর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের নির্বাহী সহকারী ইনতিশার মাশুক প্রধান ও মোহাম্মদ আহমেদ নামের এক যুবকের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে জেনেভা ক্যাম্পের কলেজ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যদিও অভিযানের বিষয়ে থানা পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মোহাম্মদ আহমেদ নামের এক যুবকের নেতৃত্বে জেনেভা ক্যাম্প ও এর আশেপাশে কথিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ পরিচালনা করা হয়। গতকাল এই গ্রুপ মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ আহমেদ ও সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের নির্বাহী সহকারী ইনতিশার মাশুক প্রধান।
অভিযানের একাধিক ভিডিও এসেছে এই প্রতিবেদকের হাতে। যেখানে দেখা যায়, মিরপুর সড়কের ‘রোড ডিভাইডারে’ অবস্থান করা কয়েকজন ভাসমান তরুণকে ধরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ সময় স্টিলের লাঠি হাতে উপস্থিত ছিলেন মাশুক প্রধান।
তবে অভিযানের কথা অস্বীকার করেন মাশুক প্রধান। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যের অফিস থেকে কোনো অভিযান ছিল না। ওখানে একটা নাগরিক সংগঠন আছে, ওরা মাঝে মাঝে এরকম অভিযান দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওটা (অভিযান) এমপির না। সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে এরকম কোনো অভিযান চালানো হয়নি।’
জানা গেছে, আহত আরিফ হোসেনের বাড়ি রংপুরের সৈয়দপুর পুরান কাজিহাট এলাকায়। তার বাবা মো. আজগর আলী এবং মা মোছা. সায়েরা খাতুন। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় বাস করেন। আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে থানায় নেওয়া হয়।
জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় অভিযানের বিষয়ে থানাকে জানানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘মাদক বিরোধী অভিযানের আগে থানাকে জানানো হয়নি। তবে একজনের মাথা ফাটার পরে পুলিশকে ফোন দিয়ে আহত অবস্থায় একজনকে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।’
এদিকে, এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি গতকালের (রোববার) কোনো অভিযানে ছিলাম না। আগে বিভিন্ন অভিযান হয়েছে, সেখানে মাশুক প্রধান উপস্থিত ছিল। তবে গতকালের অভিযানের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’
তিনি আরও বলেন, অতীতের অভিযানে আমরা শুধু প্রকাশ্যে মাদকসেবীদের ধরে মাদক সম্পর্কে সচেতন করে ছেড়ে দিয়েছি। কাউকে মারধর বা আঘাত করিনি।
এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্রহাতে এক মাদকবিরোধী অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
