ইম্ফল,১৯ অক্টোবর-ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সহিংসতার ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। পৃথক দুটি ঘটনায় এই প্রাণহানির পর নিহতদের মধ্যে দুজনের মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায়। সেখানে একটি সংগীতানুষ্ঠান চলার সময় পাথর নিক্ষেপ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২৪ বছর বয়সী এক যুবক মারা যান।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলোক এলাকায়। সেখানে পাহাড় থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া গ্রামবাসীদের ওপর সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে ওই এলাকায় কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতদের ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহ নিয়ে ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বাসভবনের দিকে মিছিল করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বাসভবনের চত্বরে মরদেহ দুটি রেখে দেন। পরে কর্তৃপক্ষ সেগুলো সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
ইম্ফল পূর্ব জেলার বিধায়ক থোকচম লোকেশ্বর সিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত গ্রামবাসীরা ইম্ফল পূর্ব ও কুকি-অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বিধায়ক জানিয়েছেন, আসাম রাইফেলসের সদস্যরা তাঁদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন নোংশুম মায়াই লেইকাই এলাকার রাজার ছেলে ৩৫ বছর বয়সী অরুবাম রনিল, যিনি রনিন নামেও পরিচিত; উয়ুমপোক নোংশুম আওয়াং লেইকাই এলাকার টম্বির ছেলে ৪৪ বছর বয়সী লাইরেনলাকপাম ইনওবি এবং উয়ুমপোক মায়াই লেইকাই এলাকার ক্ষের্তিমায়ুম দেবেনের ছেলে ৩২ বছর বয়সী ক্ষের্তিমায়ুম সুশীল।
এদিকে, আহত ব্যক্তিদের দেখতে রাজ মেডি সিটি হাসপাতালে যান মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী হামলার ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
বিধায়ক থোকচম লোকেশ্বর সিং এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে হামলার স্থানটির কাছাকাছি অবস্থিত ‘সিনাই ক্যাম্প’ নামে পরিচিত সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) ক্যাম্পটি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এস এম/ ১৯ অক্টোবর ২০২৬
