রাজধানীর মিরপুরে চাঁদা আদায়, জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, জমি ও ফ্ল্যাট দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে মো. মেহেদী হাসান ওরফে জয় (৩৯) একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হয়ে চাঁদা আদায় ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করতেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর মডেল থানা-পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন সানজিম হাসান (২৭) ও মো. অমিত হাসান (২৮)।
পুলিশ জানিয়েছে, মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের বিকাবদারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মিরপুর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার ও মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজন পরস্পরের সহোদর। তাদের স্থায়ী বাড়ি ঢাকার সাভারের নামাগেন্ডা এলাকায়। তারা বর্তমানে পল্লবী থানার কালশী এলাকার একটি বাসায় থাকতেন।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান ওরফে জয় মিরপুরের ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। ওই গোষ্ঠীর কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান মামুনের হয়ে চাঁদা আদায়, জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন প্লট ও ফ্ল্যাট দখল এবং ফুটপাত নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে তিনি জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ আরও বলেছে, আদায় করা চাঁদার টাকা বিদেশে পলাতক বলে উল্লেখ করা মামুন, মশিউর রহমান ও জামিলুর রহমান ওরফে জামিলের কাছে পাঠানো হতো বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার তিনজন ওই ব্যক্তিদের ভাগনে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া সানজিম হাসানের বিরুদ্ধে ওই গোষ্ঠীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। মুঠোফোনের মাধ্যমেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মিরপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬(১), ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় করা একটি মামলার তদন্ত চলছে। মামলাটির নম্বর ৪৮। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপরাধ দমন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিরপুর এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
