Published on
:
2 min read
সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাবাপন্ন কোনও অনুষ্ঠান বা খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান ও সংবেদনশীল সংবাদ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে। দেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলির সম্প্রচার নীতি নিয়ে বুধবার কড়া নির্দেশ কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের। এমনকী, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছেন সেই নির্দেশিকায়।
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান সম্প্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে এই ধরনের অভিযান সম্প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। যাতে নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ বা অভিযানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। হিংসাত্মক বা জনসাধারণকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে— এমন দৃশ্য সম্প্রচারের ক্ষেত্রেও আরও সতর্ক হতে হবে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোকে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একাধিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক ও প্যানেল আলোচনা করা হয়। সেই প্যানেল আলোচনার বিষয় ও অতিথিদের বক্তব্য সংক্রান্ত বিষয়েও বেশ কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, দেশবিরোধী মনোভাব বা উত্তেজনা ছড়াতে পারে— এমন বক্তব্য সম্প্রচার করা যাবে না। এরকম পরিস্থিতি এড়াতে সেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। কোনও প্যানেলিস্টের বক্তব্য আপত্তিকর, অবমাননাকর বা উস্কানিমূলক হয়ে উঠলে প্রয়োজনে তাঁর মাইক বন্ধ করা যেতে পারে বা বক্তব্যের সম্প্রচার থামানো কিংবা পুরো ফিড বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সংবাদ পরিবেশনে AI ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সংবাদ পরিবেশনে এই আধুনিক প্রক্রিয়া একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে সেটি যেন কোনওভাবেই সংবাদের নির্ভুলতা, সত্যতা ও সংবেদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
এই নির্দেশিকা অমান্য করলে ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস (রেগুলেশন) আইন, ১৯৯৫’-এর অধীনে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রযোজনা ও সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং সম্পাদকীয় পর্যালোচনার ব্যবস্থাও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
