মাগুরার শালিখা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে এএসআইকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অপু নামের এক এজাহারভুক্ত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শালিখা উপজেলার হরিশপুর দেওয়াডাঙ্গা ইটভাটা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপুসহ তার সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শালিখা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাকিবুল ইসলাম সাহসিকতার সঙ্গে অভিযুক্ত অপুকে জাপটে ধরলে তিনি কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তার শরীরে আঘাত করেন। এতে এএসআই রাকিবুল গুরুতর আহত হন। পরবর্তী সময়ে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অপুকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দিলে তিনি সামান্য আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন এবং আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তার অপু মূলত শালিখা উপজেলার হরিশপুর গ্রামে তার মামার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করে এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বাবার নাম জালাল উদ্দিন। দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও সহিংসতার মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শালিখা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, আটক অপুর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ইতিমধ্যে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে নতুন মামলা রুজু করা হয়েছে এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযانের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর এমন নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
