বাংলাদেশ রেলওয়ের বেদখল হয়ে যাওয়া সমস্ত জমি দ্রুত শনাক্ত করে তা পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহণ, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম। তিনি বলেন, রেলের জমি প্রথমত রেলের নিজস্ব প্রয়োজনে এবং দ্বিতীয়ত রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। যেখানেই অবৈধ দখল রয়েছে, সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর ঐতিহাসিক সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সরজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সৈয়দপুর পৌরসভার সঙ্গে রেলের জমির নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মন্ত্রী জানান, পৌরসভা এলাকাতেই রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি দখলে রয়েছে, যা বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। সভায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সমস্যা সমাধানের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বর্তমানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পর্যায়ে নতুন করে জমি লিজ দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
রেল খাতকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল রেলওয়েকে আমূল পরিবর্তন করে ঢেলে সাজানো। সৈয়দপুরের এই ঐতিহ্যবাহী কারখানা ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছে। একসময় এখানে ১২ হাজারেরও বেশি যন্ত্রাংশ তৈরি হলেও বর্তমানে তা কমে সাড়ে ছয়শতে নেমে এসেছে, ফলে অনেক সরঞ্জাম চড়া দামে আমদানি করতে হচ্ছে। এই কারখানার পুরনো সক্ষমতা ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ঘটানো হবে।
পরিদর্শনকালে তিনি কারখানার মেরামত কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মিলে রেলের প্রায় ৪০০ কোচ মেরামত ও সচল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচ মানসম্মতভাবে দ্রুত মেরামতের জন্য দক্ষ কারিগর ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
এছাড়া সারাদেশে অবস্থিত ৯টি রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে এগুলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান রেলপথ মন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম।
