সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রুর মৃত্যু হয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এটিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভূপাতিত করার দাবি করলেও রিয়াদের পক্ষ থেকে একে যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হতাহতের খবর নিশ্চিত করে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি আজ রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটি’র কারণে একটি এএইচ-৬আই গোয়েন্দা হেলিকপ্টার নাজরান অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটির দুই ক্রু নিহত হন এবং যানটি সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের অধীন এলাকায় আছড়ে পড়ে। বিপরীতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তে বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় হুতি বাহিনী ওই হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে তা ভূপাতিত করে।
হুতিদের এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সারিবদ্ধ সামরিক হেলিকপ্টারের ছবি প্রকাশ করেন তুর্কি আল-মালিকি। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আপনারা দাবি করছেন, এটি ভূপাতিত করেছেন। কিন্তু এটি শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরবে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ আগে সৌদির সিভিল ডিফেন্স আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে রিয়াদ, আবহা ও খামিস মুশাইত শহরে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল, যা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়।
পাল্টাপাল্টি এ উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রিয়াদ অঞ্চল, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে হুতিদের পাঠানো চারটি আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর ইয়েমেনের সাদায় অবস্থিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে বিমান হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করার ভিডিও প্রকাশ করেছে জোট বাহিনী। এর আগে গত মাসেও সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল হুতিরা।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত জুলাই থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা ক্রমশ বাড়ছে। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন এবং পরদিনের হামলায় আরও একজন নিহত হন। এর তিন দিন পর ১৩ অক্টোবর ধাহরানে অবস্থিত দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। সীমান্তে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপ ইয়েমেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও উসকে দিয়েছে।
