যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘাতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরাইল। তবে এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব।
সোমবার হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবকে এ প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরাইল। খবর আনাদোলু আরবির।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবকে হুতিদের বিরুদ্ধে সংঘাতে ইসরাইলের হস্তক্ষেপের অনুমতি দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছে ইসরাইল।
পত্রিকাটিকে আরেকটি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পথ তৈরি করাই ইসরাইলের এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
তবে কূটনৈতিক সূত্রটির দাবি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে ইসরাইলের সহায়তা নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নন। কারণ, ইসরাইলের সঙ্গে জোট গড়লে সৌদি আরবের জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
সূত্রটি আরও জানায়, সৌদি যুবরাজের কঠোর আপত্তির কারণে ইয়েমেনে ইসরাইলের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে রাজি নয় বলে সৌদি আরব বিভিন্ন সময়ে জানিয়ে এসেছে।
হুতিদের হামলার নিন্দা নেতানিয়াহুর
এদিকে রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার নিন্দা জানান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সন্ত্রাসবাদ নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং ভয় ও অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।’ এ ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান নেতানিয়াহু।
তিনি আরও বলেন, ইসরাইল এমন একটি শক্তিশালী মধ্যপ্রাচ্য দেখতে চায়, যেখানে দেশগুলো হুমকি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকবে, নিজেদের জনগণকে সুরক্ষা দেবে এবং অঞ্চলের সব দেশের জন্য নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ করবে।
সৌদি আরবে একাধিক হামলার দাবি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া চলতি ৫ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের পাঁচটি বিমানবন্দরে ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলায় ১৯ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হয়েছেন। হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে।
গত জুলাই থেকে সৌদি আরব ও হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচলের স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।