যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান দ্য গান্ড কোম্পানি ৭৫ বছরের ইতিহাসে কখনো কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করেনি। গত এক দশকে বছরে গড়ে ১৮ শতাংশ হারে ব্যবসা বাড়ানো প্রতিষ্ঠানটির কর্মপদ্ধতি জানতে এখন আগ্রহী অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্তারা।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত গান্ড কোম্পানি শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও উপকরণ তৈরি করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেন প্রায় ১ হাজার ৩০০ কর্মী। এর বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি ডলার। জেনারেল ইলেকট্রিক ও রকওয়েল অটোমেশনের মতো প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহক।
প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় প্রজন্মের প্রধান নির্বাহী স্টিভ গান্ডের মতে, কর্মীদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়াই তাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। তার বিশ্বাস, ব্যবসার লক্ষ্য শুধু মুনাফা বাড়ানো নয়, কর্মীদেরও ভালো রাখা।
কর্মীদের চাকরি থেকে বাদ দেয়ার বদলে তাদের দক্ষতা বাড়ানো ও ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করে প্রতিষ্ঠানটি। কর্মীদের মতামত নেয়া হয় নিয়মিত। কাজের জায়গায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার তথ্যও কর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নেয়া হয়।
কর্মীদের উন্নতির সুযোগ দেয়ার একটি উদাহরণ ডেইড্রা জোনাস। ১৬ বছর আগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। পরে ধাপে ধাপে দায়িত্ব বদলে এখন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাদের মতামত সংগ্রহের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
স্টিভ গান্ড জানান, ২০১৫ সাল থেকে কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়ার এই পদ্ধতি আরও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন শুরু করেন তিনি। এ জন্য ১২ ধাপের একটি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে কর্মীদের উন্নয়ন পরিকল্পনা, কাজের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেয়া হয়।
গান্ড কোম্পানির এই কর্মপদ্ধতি দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গেছেন। তবে তাদের মধ্যে খুব কম প্রতিষ্ঠানই পুরো পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পেরেছে। স্টিভ গান্ডের মতে, প্রতিষ্ঠানের কাজের সংস্কৃতি বদলাতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এ জন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি যুক্ত থাকা এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করা জরুরি।
তবে কর্মীদের ছাঁটাই না করার নীতির অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠানে কোনো সমস্যা নেই। গান্ড কোম্পানিতেও নতুন কর্মীদের চাকরি ছাড়ার হার তুলনামূলক বেশি। দ্রুত ব্যবসা বাড়ানোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করাও প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।
তারপরও গান্ডের অভিজ্ঞতা অন্য পারিবারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবসা পরিবারের হাতেই রেখে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিতে চায়, তারা কর্মীদের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে কীভাবে ব্যবসা বাড়ানো যায়, তা জানতে আগ্রহী।
