জাতীয় গবেষণাধর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘তারেক রহমান রাজনৈতিক দর্শন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ’ ১৯ বছর পার করেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সংগঠনটি ২০তম বর্ষে পদার্পণ করছে। এ উপলক্ষে সকালে চট্টগ্রামের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণসহ নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সংগঠনটি।
২০০৭ সালের ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. আলমগীর নূরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা ও পলিসি গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।
দুই দশকে পদার্পণ উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিশেষ পর্যালোচনায় কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৭ সালে সংগঠনের ঘোষিত ৪৭ দফার সাংগঠনিক ও রাষ্ট্রভাবনার রূপরেখাটি ছিল মূলত সংকটকালীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে একটি আধুনিক, স্বনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র নির্মাণের প্রাথমিক নীতিনির্ধারণী দলিল।
গবেষণা কেন্দ্রটির পর্যালোচনায় মূলত ৩টি কৌশলগত দিক তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—তৃণমূলভিত্তিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও চট্টগ্রাম : সংস্থাটির মতে, জাতীয় রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রবিন্দু কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ রাখা সমীচীন নয়। তারেক রহমানের ক্ষমতা ও চিন্তার অবকাঠামো কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নয়, বরং তৃণমূল থেকে কেন্দ্রাভিমুখী হতে হবে—এই দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবেই বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে এই জাতীয় থিংক-ট্যাংক প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
৪৭ দফা ও ৩১ দফার ঐতিহাসিক মেলবন্ধন : ২০০৭ সালে ঘোষিত ৪৭ দফায় উল্লিখিত দক্ষ যুব নেতৃত্ব, আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা, কৃষি বিপ্লব, প্রবাসীদের ডাটাবেজ তৈরি, অটিস্টিক শিশু ও তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়গুলো পরবর্তীতে তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রগঠনের ৩১ দফা রূপরেখার মূল চেতনার সাথে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।
‘বাংলাদেশ ২০৩৫’ ও পলিসি থিংক-ট্যাংকে রূপান্তর : ১৯ বছরের গবেষণাভিত্তিক পথচলা শেষে প্রতিষ্ঠানটি এখন ব্যক্তিনির্ভরতার ঊর্ধ্বে উঠে একটি বিশ্বমানের নীতি-গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, রোবটিক্স, ডাটা-ড্রাইভেন পলিসি এবং সমুদ্র অর্থনীতিকে যুক্ত করে ২০৩৫ সালের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপরেখা প্রণয়নই এখন সংস্থাটির প্রধান অগ্রাধিকার।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. আলমগীর নূর এক বিবৃতিতে বলেন, অতীতের ত্যাগ ও স্মৃতিকে ধারণ করে, বর্তমানের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ এবং তরুণ প্রজন্মকে গবেষণায় যুক্ত করে একটি প্রযুক্তিনির্ভর স্বনির্ভর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করাই আমাদের অঙ্গীকার। আমাদের মূলকথা—মেধা, দক্ষতা, নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞায় সবার আগে বাংলাদেশ।
