ব্রিসবেন থেকে জয়হীন ফেরার হতাশা, ব্যাটিংয়ে পুরোনো ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি। অস্ট্রেলিয়া সফরেও নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারল না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ১৭২ রানে অলআউট হয়ে স্বাগতিকদের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। তাতে সিরিজের তিনটি ম্যাচেই পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশের মেয়েদের।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় মাত্র ১৮ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান প্রথম তিন ব্যাটার। শুরুতেই এমন ধাক্কা সামলে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন শারমিন আক্তার সুপ্তা ও স্বর্ণা আক্তার। দুজনের অর্ধশতকে কোনোমতে দেড়শ পেরোয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। তবে তাদের ব্যক্তিগত লড়াই দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়নি।
শারমিন ৯৩ বলে ৫০ রান করেন। ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়লেও তার ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয়নি। অন্য প্রান্তে স্বর্ণা ছিলেন তুলনামূলক আক্রমণাত্মক। ৭১ বলে ৫৪ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল চারটি চার। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি স্বর্ণার প্রথম অর্ধশতক- ব্যক্তিগতভাবে যা তার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন। কিন্তু দলের প্রয়োজনীয় সময়ে অন্য ব্যাটারদের কাছ থেকে কার্যকর অবদান না আসায় সেই অর্জনও শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে যায়।
শারমিন ও স্বর্ণার লড়াইয়ে বাংলাদেশের ইনিংস কিছুটা স্থিতি পেলেও শেষ দিকে আবারও উইকেট হারানোর ধারা শুরু হয়। নিয়মিত বিরতিতে ব্যাটারদের বিদায়ে ৪৯.৫ ওভারে ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মেগান শুট নেন চার উইকেট। অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড দুটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৭৩ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়নি। দুই উইকেট হারালেও অভিজ্ঞতা ও ব্যাটিংয়ের গভীরতায় দ্রুত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এলিস পেরির অপরাজিত ৬৫ এবং সাদারল্যান্ডের অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংসে সহজেই জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। হাতে ১৬৪ বল রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। অর্থাৎ বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে কিছুটা সাফল্য পেলেও ম্যাচে ফেরার মতো চাপ তৈরি করতে পারেননি।
এই হারের তাৎপর্য কেবল একটি ম্যাচে সীমাবদ্ধ নয়। পুরো সিরিজের ফল বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই দলের পারফরম্যান্সের ব্যবধান আবারও সামনে এনেছে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ১৬৬ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া সাত উইকেটে জয় পায়। দ্বিতীয় ম্যাচেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেননি। ২২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অস্ট্রেলিয়া নয় উইকেটে জেতে। শেষ ম্যাচে ১৭২ রান করেও একই পরিণতি এড়াতে পারেনি জ্যোতির দল। ফলে তিন ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে।
এর আগে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে সংগ্রহ ছিল ৯৭ রান, আর তৃতীয় ম্যাচে ৮৯ রানেই শেষ হয় ইনিংস। অস্ট্রেলিয়া যথাক্রমে ১১৮ রান, ছয় উইকেট ও আট উইকেটের ব্যবধানে জয় পায়। অর্থাৎ দেশের মাটিতে হোক কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে- এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভঙ্গুরতা বারবারই প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের আগের আন্তর্জাতিক লড়াইগুলোতেও ব্যবধান ছিল স্পষ্ট। ২০২৪ সালের ওয়ানডে সিরিজের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি সিরিজেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে তিন ম্যাচেই হারে বাংলাদেশ। ২০২২ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পায়নি দলটি। এসব ফলাফল দেখায়, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কেবল মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়, প্রয়োজন দলীয়ভাবে ধারাবাহিকতা।
