ভারতের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরগরম সে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ। এ আন্দোলনের মধ্যেই বলিপাড়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে ছাত্রবিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল পুরো দেশ। সেই সময়ে পড়ুয়াদের পক্ষে সেলিব্রিটিদের সমর্থনের ঢল নেমেছিল। এবার পরিস্থিতি অন্য রকম। বেশিরভাগ তারকাই যাবতীয় বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন।
তবে হাতেগোনা কয়েকজন স্পষ্টভাবেই তাদের বক্তব্য সামনে রেখেছেন। আর তাতেই বলিউডের মধ্যে তৈরি হওয়া একটা আড়াআড়ি বিভাজন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পড়ুয়াদের আত্মহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া আন্দোলনে ছাত্রদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে একাধিক তারকা প্রকাশ্যে এসেছিলেন। টানা বিক্ষোভের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিয়েছিলেন দেশের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
এবার সেই আন্দোলনের মূলে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছে। এবার তাদের দাবি, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। বিষয়টি শুধু সিজেপির বিক্ষোভেই আটকে নেই, দেশের একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলও নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে রাস্তায় নেমেছে। উল্টোদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও বিক্ষোভ ও আন্দোলন থামানোর জন্য একাধিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই সিজেপির রাস্তায় নেমে বিক্ষোভের ডাকের সমালোচনা করেছেন রণবীর শৌরে। অভিনেতার সাফ বক্তব্য— নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে রাস্তায় বিক্ষোভের বদলে আদালত, সংসদসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া উচিত।
রণবীর বলেন, রাস্তা নিজেদের দখলে নিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করা এবং সরকারি পরিকাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়াই আসলে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’। এ আন্দোলনকে তুলোধোনা করে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত বিক্ষোভকারীদের ‘দেশবিরোধী’ তকমাও দিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিনেতা বিজয় ভার্মা ও অভিনেত্রী হুমা কুরেশি আবার আন্দোলনের পক্ষে মুখ খুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট রি-শেয়ার করেছেন বিজয়। যে পোস্টের বিষয়বস্তু— জ্ঞানেশ কুমারের গদি বাঁচাতে কেন্দ্রীয় সরকার অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। অভিনেত্রী হুমা কুরেশি আবার বিক্ষোভ করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দিল্লিসহ দেশের একাধিক জায়গা থেকে আন্দোলনকারীদের ধরপাকড়ের খবর আসছে গত কয়েক দিন ধরেই। সেই পরিপ্রেক্ষিতে হুমা বলেছেন, ‘বিশ্বের সব থেকে বড় গণতন্ত্রে নিজেদের দাবি সামনে রেখে বিক্ষোভ করাটাও কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার।’ প্রায় একই রকম বক্তব্য রেখেছেন স্বানন্দ কিরকিরেও।
এর মাঝে অভিনেতা আমির খানের ভাইঝি জেন মেরি খানের পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন চর্চা। হাতে–পায়ে একাধিক কালশিটের দাগ দেখিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। বিক্ষোভে শামিল হওয়ার সময়ে মুম্বাই পুলিশ তাকে আটক করেছিল। সেই সময়ে ধাক্কাধাক্কির জেরে চোট লেগেছে বলে দাবি জেনের। তাকে ছাড়া অভিনেতা ইমরান খান ও তার গার্লফ্রেন্ড লেখা ওয়াশিংটনকেও আটক করেছিল মুম্বাই পুলিশ।