মাদকমুক্ত ও সুন্দর সমাজ গঠনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। তিনি বলেছেন, "সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মেলামেশা করছে এবং তার চালচলনে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, সেদিকে অভিভাবকদের সর্বদা বিশেষ নজর রাখতে হবে।"
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে ‘মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ আরও বলেন, "অভিভাবকদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে। আপনার সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলছে, তার দৈনন্দিন চালচলনে কী পরিবর্তন আসছে— এসব বিষয়ে নজর রাখুন। আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাদককে 'না' বলি এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ি।"
সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রাথমিক শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শাহীন মিয়াসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একটি নির্দিষ্ট পরিবারকেই ধ্বংস করে না, পুরো সমাজব্যবস্থায় এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কেবল সরকারের একা পক্ষে মাদক নির্মূল করা কঠিন, এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা, তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত দায়িত্বশীল আচরণ।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, পারিবারিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা মাদক প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। একটি সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল তরুণ সমাজ গড়ে তুলতে না পারলে বিশ্বায়ন ও বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতায় দেশ পিছিয়ে পড়বে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে কলেজের বিভিন্ন বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা বৃত্তির অর্থ ও সম্মাননা তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
