সাবির স্কুলের ছুটিতে নানাবাড়িতে এসেছে। তার নানাবাড়ি চট্টগ্রাম শহরে। এখানে এলে ভীষণ মজা করে সাবির। আব্বু-আম্মু, আপুসহ নানা-নানু, বড় মামা-মামি সবাইকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাওয়া হয়। আজ নানার সঙ্গে চট্টগ্রাম শহর ঘুরে বেড়াতে বেরিয়েছে সাবির। রিকশায় ঘুরতে ঘুরতে একসময় তারা চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের সামনে চলে আসে। ওখানে কিছু খাবারের দোকান আছে। মজার মজার খাবারের জন্য নানা প্রায়ই সাবিরকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যান। স্টেডিয়ামের সামনে রিকশা থেকে নামতেই একটা রেস্ট হাউসের মতো বাড়ি দেখতে পায় সাবির। আজকাল এমন বাড়ি খুব একটা দেখা যায় না। পুরোনো ধাঁচের বাড়ি হাওয়ায় কৌতূহল জাগে সাবিরের মনে। নানার হাত ধরে থাকা সাবির ওই বিশাল বাড়িটা দেখিয়ে জানতে চায়, ‘আচ্ছা নানাভাই, এই বাড়িটি কার? এখানে কারা থাকে?’
‘নানাভাই, এটা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস। চট্টগ্রামে এলে সরকারের বড় বড় কর্মকর্তারা এখানে থাকেন। তবে এটা একটা ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটা জিয়া স্মৃতি জাদুঘর।’ নানার কথার জবাবে সাবির কৌতূহলী হয়ে জানতে চায়, ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর! নানাভাই, বুঝতে পারলাম না। এখানে কী রয়েছে, এখানে কী ঘটেছিল?’
জাদুঘরে সবকিছু ঘুরে দেখতে দেখতে সাবিরের নানাভাই বলে চলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান ছিলেন আমাদের স্বাধীনতার মহান ঘোষক। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে আমাদের এই চট্টগ্রাম থেকেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেনÑ ‘আমি মেজর জিয়াউর রহমান... বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি’Ñ ১৯৭১ সালের সেই চরম সংকটময় মুহূর্তে এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তৎকালীন মেজর জিয়ার সেই ঐতিহাসিক আহ্বান।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়ে দেশকে রক্তগঙ্গায় পরিণত করেছিল, যখন গোটা জাতি দিশাহারা ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় ছিল, ঠিক তখনই তার এই কালজয়ী ঘোষণা জাতির সামনে আশার আলো হয়ে আসে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠেন ‘৭১-এর কণ্ঠস্বর’। সেই ভয়াল রাতে কামানের গর্জন আর গুলির শব্দে যখন বাঙালির ঘুম ভেঙেছিল, সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করে। প্রথমে নিজের ব্যাটালিয়নের সামনে এবং পরবর্তীতে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দেওয়া তার সেই ঘোষণা সব দ্বিধা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। সেই বেতার কেন্দ্র থেকেই তখনকার মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। এ কারণে পরে বেতার কেন্দ্রটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
সাবির তার নানার মুখে একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার কথা শুনছে মুগ্ধ হয়ে। সে এখন ক্লাস ফাইভে পড়ছে। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কথা বিভিন্ন জনের মুখে শুনে এসেছে এতদিন। কিন্তু এভাবে তার সম্পর্কে কেউ বলেনি তাকে। ‘এখানে জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত কিছু জিনিসপত্র এবং কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে আনা স্বাধীনতা ঘোষণার ট্রান্সমিটারটি যতœ করে রাখা আছে। চলো তোমাকে সেসব দেখিয়ে আনি। এসো আমার সঙ্গে’, নানাভাই খুব আগ্রহ নিয়ে বলেন। কথা বলতে বলতে নানা তার নাতি সাবিরকে নিয়ে এক জায়গায় বসেন। ‘তুমি বাংলাদেশের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কিছু কী জানো?’ নানা প্রশ্ন করেন। নানার মুখে এই প্রশ্ন শুনে সাবির ডানে-বামে মাথা নাড়েÑ‘নাহ, আমি তেমন কিছু জানি না। এখানে এসেছি আমরা। জায়গাটা জিয়াউর রহমানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। তুমি তার সম্পর্কে বলো, আমি জানতে চাই’ সাবির বলে। ‘চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সেই উত্তাল সময়ে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা স্পষ্ট করে দেয় যে, বাংলাদেশের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের কাছ থেকে কেবল স্বায়ত্তশাসন চায় না, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে চায়। এটি মুক্তি সংগ্রামের বৈধতাকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়িয়ে দেয়। ভয় ও অনিশ্চয়তার সেই চরম মুহূর্তে জিয়ার কণ্ঠস্বর মানুষের মনে সাহস জোগায় এবং বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধকে একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে’, নানা বলেন। ‘তুমি আমাকে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে যা জানো সবকিছু খুলে বলো। আমি তার সব কথা জানতে চাই’, সাবির আগ্রহ নিয়ে বলে।
‘শৈশব থেকেই জিয়াউর রহমান ছিলেন আপসহীন ও স্বাধীনচেতা। স্কুলজীবন থেকেই পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে ব্যথিত করতো। তার হৃদয়ে কেবল একটিই স্বপ্ন ছিলÑ সুযোগ পেলেই পাকিস্তানিদের ঔদ্ধত্যের জবাব দেওয়া। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে তিনি সেই আজন্ম লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে। ২৫ মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরীহ বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন নিয়ে বিদ্রোহ করে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীনও জিয়ার মনে-প্রাণে ছিল বাংলাদেশ ও তার মানুষের প্রতি গভীর টান।’
‘তার ছোটবেলার কথা কিছু বলো না নানাভাই!’ ব্যাকুল হয়ে সাবির নানাকে অনুরোধ করে।
‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মনসুর রহমান এবং মায়ের নাম জাহানারা খাতুন। তাদের পাঁচ পুত্রসন্তানের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। তার ডাকনাম ছিল কমল। শিশু কমল ছিল বাড়ির সকলের প্রিয়। শৈশবে তাকে বাগবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। পড়াশোনায় তিনি ছিলেন খুবই মনোযোগী। বাগবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুবছর লেখাপড়া করে তিনি পিতার কর্মস্থল কলকাতায় গিয়ে সেখানকার হেরার স্কুলে ভর্তি হন। ইতোমধ্যে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তার পিতা চাকরির খাতিরে কলকাতা ছেড়ে পাকিস্তানের করাচি শহরে চলে যান এবং কিশোর জিয়াকে ১৯৪৮ সালের ১ জুলাই করাচি একাডেমি স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি করেন। তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, সত্যবাদী। তিনি একা থাকতে পছন্দ করতেন। তার ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার এবং দেশ ও দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করা। পরবর্তীতে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তিনি ভাবলেন, সৈনিক হয়েও দেশ সেবা করা যায়। তাই তিনি ১৯৫৩ সালে একজন অফিসার হিসেবে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে যোগদান করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান তরুণ ক্যাডেট। জিয়াউর রহমান ছাত্র হিসেবে যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি সৈনিক হিসেবেও মেধার পরিচয় দিয়ে দুর্র্ধর্ষ সৈনিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পশ্চিমা হানাদার বাহিনী অতর্কিতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে বাঙালিদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে আটকে রাখে। আত্মরক্ষার্থে আওয়ামী নেতারা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন নেতাহারা জাতি বাঙালিরা হয়ে পড়ে দিশাহারা। সেই দুর্যোগ মুহূর্তে জেনারেল জিয়াউর রহমান, যিনি সেসময় মেজর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি দেশ ও জাতিকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রামস্থ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ফলে নেতৃত্বহীন জাতি স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জিয়ার নিজের নামের আদ্যাক্ষরে জেডফোর্স গঠন করা হয়। এ ফোর্স মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। মাত্র ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। একজন অকুতোভয় দুঃসাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাব লাভ করেন।’
নানাভাই বলতে থাকেনÑ ‘শহিদ জিয়া এদেশের মাটি ও মানুষকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসতেন বলেই তিনি ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। তার কর্মবহুল জীবনে এসবের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন বহু গুণে গুণান্বিত। দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণে তার যুগান্তকারী দুঃসাহসী পদক্ষেপগুলোর কথা আজও আমরা ভুলতে পারি না। সময়ের দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনগণের জন্য তিনি ছিলেন আল্লাহর দেওয়া আশীর্বাদের মতো। গায়ের জোরে, বন্দুকের নলের মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ঠাঁই করে নেওয়া যায় না। দেশ বদলে দেওয়ার মতো অনন্য অসাধারণ নেতা পরিণত হওয়া যায় না। তিনি ছিলেন একজন জাদুকরের মতো। তার চলাফেরা, কথাবার্তা, কাজকর্ম, ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব দেওয়ার অপূর্ব ক্ষমতা সত্যি বিরল। সচরাচর এমন একজন মানুষ পাওয়া কঠিন। জিয়ার মতো নেতা বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করায় দেশ ও জাতি গর্বিত ও সৌভাগ্যবান।’ নানাভাইয়ের মুখে একজন দেশপ্রেমিক মহান মুক্তিযোদ্ধার জীবনের গল্প শুনতে শুনতে কেমন আত্মমগ্ন হয়ে পড়ে সাবির। সে মাত্র ক্লাস ফাইভে পড়ে। নানার মুখে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশপ্রেমিক মানুষের কথা শুনতে শুনতে মুগ্ধ হয়ে যায়।
কী সাবির ভাইয়া, আমার কথাগুলো শুনতে বিরক্ত লাগছে না তো? আমি রূপকথার কোনো রাজপুত্রের কিংবা রাজার গল্প বললে হয়তো খুশি হতে, তাই না! ‘আরে, কী যে বলো তুমি নানাভাই! তিনি তো শুধু একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, বাস্তবে তিনি রূপকথার গল্পেরই একজন নায়কের মতো ছিলেন। তোমার কাছ থেকে ইতিহাসের এই মহানায়কের গল্প শুনতে শুনতে হারিয়ে গেছি অন্য এক জগতে’, সাবির জবাব দেয় উচ্ছ্বসিত হয়ে। নানাভাইকে হঠাৎ বিমর্ষ হয়ে পড়তে দেখে সাবির। এতক্ষণ তো বেশ হাসিখুশি মুডে কথা বলছিলেন। হঠাৎ আবার কী হলো তার?
‘নানাভাই, কি হয়েছে তোমার? তোমার শরীর খারাপ লাগছে?’
‘নারে ভাই। শরীর ঠিক আছে। মনটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল। সেই মহান দেশপ্রেমিক মানুষটির কথা মনে পড়তেই অনেক দুঃখ বেদনা শোক আর কষ্ট এই বুকের মধ্যে চেপে বসেছে। খারাপ লাগছে ভীষণ।’
‘নানাভাই, কিসের কষ্ট তোমার?’
‘যে মানুষটি মাত্র কয়েক বছরে বাংলাদেশটা বদলে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছিল এই দেশটাকে তার হাত ধরে। সেই সোনার মানুষটিকে ঘাতকের দল হত্যা করেছিল রাতের অন্ধকারে এই সার্কিট হাউসে।’ ‘কী বললে! এই সার্কিট হাউসেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল? একেবারে এখানে?’
‘জ্বি, নানাভাই’, বলতে বলতে অশ্রু সজল হয়ে ওঠে নানার চোখ। ‘এই চট্টগ্রাম শহরে সরকারি সফরে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ২৯ মে তৎকালীন সার্কিট হাউসের ৪ নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন তিনি। সারাদিন ব্যস্ত ছিলেন নানা কর্মকা- নিয়ে। গভীর রাতে প্রচ- বৃষ্টি হচ্ছিল সেদিন। এর মধ্যে গোলাগুলোর শব্দ পাওয়া যায়। আর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেই রাতটিই ছিল প্রেসিডেন্ট জিয়ার জীবনের শেষ রাত। গভীর রাতে এখানেই তিনি শহিদ হন। একদল বিপথগামী সৈনিক ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল সেদিন। শহিদ জিয়ার রক্তে ভেজা সেই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস এখন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে’। জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখতে দেখতে এবং এই মহান দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা, রাষ্ট্রনায়কের অবদানের নানা গল্প শুনতে কখন যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল এবং তারপর সন্ধ্যা নামতে শুরু করেছে, খেয়াল করতে পারেনি তারা দুজন। জাদুঘরের গেট পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সামনের বড় রাস্তায় চলে আসে সাবির তার নানাভাইয়ের হাত ধরে।
রাস্তায় অনেক গাড়ির ছুটোছুটি, মানুষজনের কোলাহল, ব্যস্ততার মাঝেও সাহির উপলব্ধি করে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, দেশটাকে স্বাধীন করেছেন। এরপর আবার দেশের হাল ধরেছিলেন যে মানুষটা। বিপন্ন বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের আরাম আয়েশ, রাজকীয় জীবনযাপনকে তুচ্ছ করে দেশের মানুষের জন্য নিজেকে নিবেদন করেছিলেন অসাধারণ মানুষটা, তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল কয়েকজন দুর্বৃত্ত। তারা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলেও দেশটাকে তার আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। আজও এদেশের মানুষ তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করে। সাবির হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। নানাভাইকে উদ্দেশ করে বলে, নানাভাই, আমি জিয়ার মতো হতে চাই। আমিও দেশটাকে অনেক ভালোবাসি। লেখাপড়া করে বড় হয়ে আমি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হতে চাই। দেশের জন্য অনেক কিছু করতে চাই। তুমি আমাকে দোয়া করো, নানাভাই।’ নাতির মুখে এমন কথা শুনবেন ভাবতে পারেননি নানা। সাবিরের কথা শুনে তার দু’চোখ অশ্রু সজল হয়ে ওঠে। তিনি আনন্দে উচ্ছ্বাসে কাঁদতে থাকেন। সাবিরকে দুই হাতে কোলে তুলে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখেন কিছুক্ষণ। আশপাশের লোকজন একজন বৃদ্ধ মানুষ আর ছোট্ট একটি কিশোরের উচ্ছ্বাস, আনন্দ, আবেগের প্রকাশ দেখতে থাকে বিস্ময়ভরা চোখে।
