ফ্রান্সে ‘চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসন’ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার দেয়া এক উসকানিমূলক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সপ্তাহান্তে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিক্ষোভ থেকে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর ফ্রান্সের সমালোচনা করেন তিনি। নেতানিয়াহুর এ বক্তব্য পশ্চিমা বিশ্বের উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিক ও ভাষ্যকারদের ব্যবহৃত বক্তব্যের প্রতিধ্বনি। এসব রাজনীতিক ও ভাষ্যকার ভিত্তিহীনভাবে দাবি করে আসছেন, অভিবাসনের কারণে বৃটেনের মতো ইউরোপের কিছু অংশে ইসলামি আইন চালু হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
এক সাক্ষাৎকারে ডানপন্থি এই প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের নেতাদের অস্থিরতা মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বলেন। তার দাবি, চরমপন্থি মুসলিমদের কারণে এই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন বড় শহরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন দেশটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ। ফরাসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল আই২৪নিউজে প্রচারিত দোভাষীর অনুবাদ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বলেন, ‘তারা সময়মতো প্রস্তুতি নেয়নি, তারা কেবল হাল ছেড়ে দিয়েছে। তারা চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার করেছে।’
ফ্রান্সকে কী পরামর্শ দেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। তোষণনীতির পথে হাঁটবেন না। চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই করুন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। নেতানিয়াহু আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে বলেছিলেন, ‘আমরা যদি এখানে তাদের নির্মূল করতে না পারি, তাহলে প্যারিসে তাদের দেখতে পাবেন। আর ঠিক সেটাই ঘটছে।’ তবে নিজের এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।
গত বছর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া ইউরোপের কয়েকটি দেশের মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম। এ ঘটনায় ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ফ্রান্সের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে অভিবাসনকে দায়ী করেছেন। ইউরোপ ও ম্যাক্রনকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার সঙ্গে অভিবাসনের সম্পর্ক রয়েছে; স্কুলের সঙ্গে নয়, অন্য কোনো কিছুর সঙ্গেও নয়। এটি অভিবাসনের বিষয়। আমি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে বলেছি, আপনাদের সীমান্ত বন্ধ করুন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলাকে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি কখনো কখনো জাতিগত ভীতিকে উসকে দেয়। এমন মিথ্যা দাবিও ব্যবহার করেছেন। এর আগে গত আগস্টে নেতানিয়াহু বৃটেনকে বিদ্রƒপ করে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তার ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লন্ডন একে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে।
