মন্ত্রিসভার যেকোনো সদস্যকে পদত্যাগ করতে বলার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সংবিধানের বিধান তুলে ধরে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ জানালে এবং ওই মন্ত্রী তাতে সম্মত না হলে রাষ্ট্রপতি তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতাও প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে।
সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে যা বলা হয়েছে
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীর পদে থাকা, পদত্যাগ এবং দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়ে বিধান রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদে থাকা এবং তাদের দায়িত্বের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে অথবা দায়িত্ব পালন বন্ধ করলে অন্যান্য মন্ত্রীদেরও পদত্যাগ করতে হয়। অর্থাৎ, মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের সঙ্গে অন্য মন্ত্রীদের পদে থাকার বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে সম্পর্কিত।
মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে কী হবে
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানোর পরও ওই মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে রাষ্ট্রপতি তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন। ফলে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের দায়িত্বে থাকা বা না থাকার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়িত্ব ও পদে থাকার বিষয়টি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের অনুরোধ এবং রাষ্ট্রপতির অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেলের এই বক্তব্য মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে।
The post যেকোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল appeared first on SATV.
