কক্সবাজারের হিমছড়ি জাদুঘরসংলগ্ন পেঁচারদ্বীপ সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ থাকা সর্বশেষ পর্যটক এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা ২০ মিনিটে কলাতলী এলাকার মডার্ন হ্যাচারির পরের ভাঙার মোড় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সমুদ্রে ডুবে পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে পানিতে নেমে নিখোঁজ হওয়া আরও এক যুবকের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। আহত একজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিআইপিআরবি পরিচালিত সি সেইফ লাইফগার্ডের সিনিয়র লাইফগার্ড জয়নাল আবেদীন ভুট্টো সর্বশেষ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে হিমছড়ি জাদুঘরসংলগ্ন পেঁচারদ্বীপ সৈকতে গোসলে নেমে কয়েকজন পর্যটক স্রোতের টানে ভেসে যান। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে একে একে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪), সাইবুল হক জিসান (২৩), মো. হারুন ও এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩)। অপর এক পর্যটকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাত পর্যটক বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা কক্সবাজারে পৌঁছান। পরে দুপুর ১টার দিকে হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন সৌরণেষ্ট নামের একটি রিসোর্টে ওঠেন। খাওয়াদাওয়া শেষে বিকেল ৪টার দিকে তাঁরা সৈকতে গোসলে নামেন।
জানা গেছে, সাত পর্যটকের কেউই সাঁতার জানতেন না। এ সময় তাঁদের কাছাকাছি আরও তিন থেকে চারজন যুবককে পানিতে ডুবে যেতে দেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান তাঁরা। একপর্যায়ে দুই দলের সদস্যরাই সমুদ্রের স্রোতে ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
জেলা প্রশাসন পরিচালিত বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহাবুব আলম জানান, নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য বলেন, দুটি দল সমুদ্রে গোসলে নেমেছিল। পর্যটকদের একটি দল ঢাকার উত্তরা এবং অন্য দলটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে এসেছিল।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ থাকা যুবকের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। আহত একজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
