মিঠু সূত্রধর পলাশ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার তিতাস ও বুড়ি নদীর তীরসহ আশপাশের তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
দিনের আলো ছাড়াও রাতের আঁধারে একাধিক ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে নদীর পাড় ও কৃষিজমি কেটে মাটি তুলে ট্রলারে করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
এতে একদিকে ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষায় নদীভাঙনের তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছেন তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ কাইতলা ইউনিয়নের গোয়ালী গ্রামের পশ্চিমাঞ্চল, বিটঘর ইউনিয়নের ভদ্রগাছা গ্রামের দক্ষিণ পাশের বুড়ি নদীর তীর এবং কুড়িঘর বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই মাটি কাটার কার্যক্রম। ভারী যন্ত্র ভেকুর মাধ্যমে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপসয়েল) কেটে নেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।নদীর পাড় থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ায় পাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের নদীভাঙনের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িঘর গ্রামের কামাল মিয়া, বাইজপুরের সাবু, কনিকাড়া এলাকার আব্দুল আজিজ, গোয়ালীর কামাল মেম্বার, কাইতলার ইসমাইল হাজী, ভদ্রগাছার হারেজ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন এই অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, জমি থেকে মাটি উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
প্রকাশ্যে দিনের পর দিন এই কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা ও ট্রলারে করে তা পরিবহন করা হলেও কেন কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা নেই, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
অভিযোগের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্যের দাবি, “প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।” তবে ‘ম্যানেজ’ বলতে তাঁরা ঠিক কী বুঝিয়েছেন এবং তাঁদের এ দাবির সত্যতা কতটুকু, সে বিষয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে এখনও আমাদের কাছে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নিচ্ছি। অবৈধভাবে নদী বা ফসলি জমি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য আমরা এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিতাস ও বুড়ি নদীর তীর এবং কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত তদন্ত করে ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নবীনগর উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
The post তিতাস-বুড়ি নদীর তীর ও কৃষিজমি গিলছে ভেকু সিন্ডিকেট, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন appeared first on The voice of Brahmanbaria || Local news means the world is.
