স্বস্তি পেলেন কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তাঁর বিরুদ্ধে একটি তথাকথিত স্টিং অপারেশনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। সিদ্দারামাইয়ার অভিযোগ ছিল, তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ওই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। বেঙ্গালুরুর এক আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। অবশেষে সেই আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে জানিয়ে দিল, ওই ফুটেজটি আর সম্প্রচার, আপলোড, শেয়ার বা অন্য কোনোভাবে প্রচার করা করা যাবে না। এই স্থগিতাদেশ সোশ্যাল মিডিয়াসহ সমস্ত প্ল্যাটফর্মে প্রযোজ্য হবে।
সিদ্দারামাইয়া ৪২টি সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন ভিডিওটি সম্প্রচারের জন্য। বেঙ্গালুরু পুলিশ দু’জন সন্দেহভাজনকে আটকও করেছে। উল্লেখ্য, ওই ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে কর্নাটকে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা জেডি(এস) নেতা এইচ ডি কুমারস্বামীর অভিযোগ, ‘স্টিং অপারেশন’-এর উৎস এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য সিবিআই তদন্ত করতে হবে।
তাঁর দাবি, ভিডিওটি (যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল) ২০২৩ সালে তোলা। যা সম্প্রতি স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলিতে দেখানো হচ্ছিল। ভিডিওয় বিএস ইয়েদুরাপ্পা ও সিদ্দারামাইয়াকে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে না। যদিও সিদ্দারামাইয়া ভিডিওটির সঙ্গে কোনও ধরনের সংযোগ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানাচ্ছেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মিথ্যাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা সহজ হয়ে গিয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সমর্থন করেও তাঁর দাবি, কিছু গণমাধ্যম স্বাধীনতার অপব্যবহার করছে। তাঁর পাঁচ দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, কর্নাটকের মানুষ তাঁর জনজীবনের সঙ্গে পরিচিত। তিনি আত্মবিশ্বাসী সত্যের জয় আসবেই।
গত জুলাইয়ে সিদ্দারামাইয়া জানিয়ে দেন, তিনি আর নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন না। সকলকে চমকে দিয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জানান ভারতীয় রাজনীতির উপর তিনি বীতশ্রদ্ধ। তাঁর অভিযোগ, দেশের রাজনীতি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। নির্বাচন লড়তে গেলেও প্রার্থীকে টাকা দিতে হয় জনগণকে। পাশাপাশি নিজের নির্বাচন না লড়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে নিজের বয়সজনিত সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন সিদ্দারামাইয়া।
