আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বড় ধরনের বিক্ষোভ আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান। ধীরে ধীরে তা-ই তার চেনা জৌলুস হারিয়েছে। দিল্লি পৌর নিগম (এমসিডি)-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন বা জমায়েতের জন্য মাত্র চারটি বুকিং হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা জানা গিয়েছে, উক্ত সময়কালে মাত্র ২৭ বার বুক করা হয় রামলীলা ময়দান। যার মধ্যে রাজনৈতিক সমাবেশ এবং সাধারণ জনসভার জন্য বুকিং হয়েছিল ৯টি। তবে এমসিডি-র তথ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য মাত্র চারটি বুকিং হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এলআইসি (LIC) এজেন্টদের একটি কর্মসূচি এবং জুলাই মাসে 'শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ'-এর একটি কর্মসূচি।
উল্লেখ্য, গতকালই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করে। পরিবর্তে তিনটি জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেগুলি হল-রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি। তবে বিকল্প জায়গা হিসাবে চিহ্নিত হলেও রামলীলায় প্রতিবাদের সংখ্যা লক্ষণীয় ভাবে কমেছে।
জানা গিয়েছে, ২০২৪-এর শুরু থেকে ২০২৬ এর সেপ্টেম্বরের মধ্যে রামলীলাকে রাজনৈতিক দলগুলির তরফ থেকে বেশ কয়েকটি সমাবেশের জন্য বুক করা হয়। পিপলস পার্টি অব ইন্ডিয়া, সিপিআই (CPI), অখিল ভারতীয় বিষ্ণোই মহাসভা এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য এই মাঠ ব্যবহার করে। এর মধ্যে আম আদমি পার্টি ২০২৪ সালের মার্চে এবং অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একবার করে মাঠটি বুক করেছিল।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ঘাঁটলেও এই ময়দানের গুরুত্ব ঠাহর করা যায়। ১৯৫৬ এবং ১৯৫৭ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ঐতিহাসিক জনসভা থেকে শুরু করে ২০১১ সালে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী মেগা আন্দোলন—সবই প্রত্যক্ষ করেছে ১০ একরের এই বিশাল প্রাঙ্গণ।
যন্তর মন্তর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মাঠ। প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য সেখানে , ১,০০০ থেকে ৫০,০০০ মানুষের অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে ছোট সংগঠনগুলির পক্ষে এই মাঠে কর্মসূচি আয়োজন করা কঠিন। কারণ মাঠটি বুক করতে প্রতিদিন ৫০,০০০ টাকা ফি এবং ৫৫,০০০ টাকার সিকিউরিটি ডিপোজিট দিতে হয়। পাশাপাশি দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের কাছ থেকে NOC নেওয়াও বাধ্যতামূলক।
বর্তমানে এই ময়দানের অর্ধেক অংশ আবার পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। বাকি অংশে আগে থেকেই বুকিং রয়েছে।ফলে আসন্ন উৎসবের মরশুমেও সাধারণ সভা বা কর্মসূচির জন্য এই ঐতিহ্যবাহী মাঠ বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা বেশ কিছু সমস্যাজনক বলেই মনে করা হচ্ছে।
