স্পোর্টস: আবুধাবি টেস্টে বাংলাদেশকে হারাতে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে আফগানিস্তানকে। লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতকে ভর করে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন ১০২, শান্ত ৮২, মুশফিক ৮১ ও মিরাজ ৫২ রান করেন। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। ২৮ রানের মধ্যেই দলটি হারায় প্রথম সারির দুই ব্যাটসম্যানকে। তবে দলের হাল ধরার চেষ্টা করছেন ওপেনার সাদেকুল্লাহ অটল ও অধিনায়ক রহমত শাহ।
সোমবার চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতির আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৩৩৭ রান। তখন দলের লিড দাঁড়ায় ৪৪৩ রানে। লিটন দাস ৮১ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বিরতির পর ব্যাটিংয়ে আরও গতি আনে বাংলাদেশ। প্রথমে অর্ধশতক পূর্ণ করেন মিরাজ। ৯২ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া এই অলরাউন্ডারের এটি টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম অর্ধশতক। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৩৬৬ রান। লিটন ও মিরাজের জুটিও পেরিয়ে যায় শতরানের ঘর।
মিরাজের ফিফটির পরের ওভারেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন দাস। কায়েস আহমেদের বলে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তিনি। ১১৫ বলে সাজানো এই ইনিংসটি টেস্ট ক্রিকেটে লিটনের সপ্তম সেঞ্চুরি।
তবে শতক পূর্ণ করার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি বাংলাদেশের এই ব্যাটার। পরের ওভারেই সেলিমের বাউন্সারে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার ১০২ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লিটনের বিদায়ের পর আর বেশি সময় ব্যাটিং চালিয়ে যায়নি বাংলাদেশ। ইনিংস ঘোষণা করে দেয় দলটি। ফলে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য।
এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ৩৪৬ রান। জবাবে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস থামে ২৪০ রানে। এতে প্রথম ইনিংসেই ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে আফগানিস্তানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে টাইগাররা। এখন ম্যাচ বাঁচাতে কিংবা জয়ের স্বপ্ন ধরে রাখতে সাদেকুল্লাহ অটল ও রহমত শাহের ওপর বড় দায়িত্ব। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারলে টেস্ট ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়বে আফগানিস্তান।
