ঢাকা: রাজধানীর উত্তরা থানাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যের ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল ও জীবন রক্ষাকারী মূল্যবান ওষুধ চোরাচালানের অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ ৪ জন গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৩।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-৩ সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলেন- চীনা নাগরিক লি ফেন, রংপুরের বকুল নাহার বীথি (২৪), সাতক্ষীরার ইউনুস আলী (২৬) এবং পটুয়াখালীর সজীব হাওলাদার (২৮)। গত ১৪ অক্টোবর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে আনুমানিক ৭.৫ কোটি টাকা মূল্যের বাংলাদেশি ওষুধ এবং নগদ ৬ লাখ ৬১৪০ টাকা জব্দ করা হয়।
এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক বলেন, চীনা নাগরিক ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ৩০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ২ থেকে ৩ দিন আগে তিনি চীন চলে যান এবং পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসায় দুই-এক দিনের মধ্যে বাংলাদেশে আসেন। অপর আসামি বকুল নাহার বীথি ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৪ বছর চীনের হুনান নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করার সুবাদে চীনা ভাষা রপ্ত করেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন চাইনিজ ব্যক্তির সঙ্গে দোভাষী হিসেবে কাজ করেন।
তিনি বলেন, এই পাচার চক্রটি মূলত অবৈধভাবে ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বাংলাদেশি ওষুধ লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চোরাচালান করে আসছে। বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশে এসব ওষুধের মূল্য তুলনামূলক কম থাকায় চক্রটি ২৪ থেকে ২৫ কেজির ওষুধ কার্টুনে ভরে বিদেশে পাচার করত।
লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, চক্রটি প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান না মেনে গত ১৩ অক্টোবর লাউঞ্জ কাস্টমস কতৃক কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো ১০০ কেজি ওজনের একটি চালান বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করা হয়, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এছাড়া বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মচারী অধিক মুনাফার আশায় ক্যানসারসহ দুরারোগ্য রোগের এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানা যায়।
তিনি আরও বলেন, জব্দকৃত ওষুধের ধরন ও পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান ও আইনানুগ কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
