ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে কিছু বাংলাদেশি প্রবাসী সাময়িকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়লেও সংঘাত শেষে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রমে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আন্তরিক সহযোগিতা করে আসছে।
তিনি বলেন, “আমাদের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রিয়াদে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিভিন্ন হাসপাতালে সরাসরি উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাধীন আহত বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিয়েছেন।”
সংকটকালে যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাঁদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এটি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, “অতীতেও এ ধরনের সংকট আলোচনায় সমাধান করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেরা যখন চরম দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, তখন এই মুহূর্তে দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত সময় নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।”
যুদ্ধে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তার বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, “দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তারা যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন শুধু সহায়তা চাওয়ার পরিবর্তে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব।”
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরকারিভাবে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তির আওতায় বড় কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করে থাকে। তবে ছোট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ তুলনামূলক কম হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে জরুরি সহায়তা হিসেবে ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারকে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
