রাজধানীর নয়াপল্টনে ২০২২ সালে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দলটির কর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে পল্টন মডেল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. আবু সালেহ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত সুলতান মনসুরকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় মহাসমাবেশ উপলক্ষে কলাবাগান এলাকায় প্রচার-প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে দলটির কর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে আসামিরা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে একটি ট্যানারি গোডাউনে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একই বছরের ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ চলাকালে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এজাহারে বলা হয়, আসামি ও তাঁদের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একযোগে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং শত শত রাউন্ড গুলি চালায়। এতে বিএনপির বহু নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। ওই ঘটনায় বিএনপি কর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরও গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনায় আবির নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
এমএ
