ছবির ক্যাপশন: .
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :
দীর্ঘ ১৭ বছরের জমে থাকা সমস্যা, অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক জটিলতা মাত্র তিন মাসে দূর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া নয়; জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে কাজ করার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এর পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘একটি নবজাতক শিশুর নাভি শুকাতে তিন মাসেরও বেশি সময় লাগে। এই সময়টুকুতে শিশুকে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে আগলে রাখতে হয়। বর্তমান সরকারের বয়সও মাত্র তিন মাস। তাই ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধান এত অল্প সময়ে হয়ে যাবে—এমন আশা করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’
তিনি বলেন, অনেকেই এখন থেকেই সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোকে গতিশীল করা, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা সময়সাপেক্ষ বিষয়। এজন্য ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তরুণদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দক্ষ ও উদ্ভাবনী প্রজন্মের ওপর। শুধু প্রচলিত শিক্ষায় নয়, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় গুরুত্ব বাড়াতে হবে। কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার এই যুগে উদ্ভাবনী চিন্তা ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। শিক্ষার্থীদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে নিজেদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখতে হবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের সৃজনশীলতা, মেধা ও দক্ষতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশ আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।’
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ ধারণা উপস্থাপন করেন। পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা।
