জাতিসংঘের আসন্ন শীর্ষ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের দাবিতে বিশাল পদযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন হাজার হাজার মানুষ।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদর দপ্তরের অভিমুখে বিক্ষোভ হয়।
সম্প্রতি ইউরোপজুড়ে তৈরি হওয়া অভূতপূর্ব তাপদাহ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন
আগামী মাসে তুরস্কের পর্যটন শহর আনতালিয়ায় বার্ষিক জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিরা একত্রিত হবেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রক্রিয়াটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ায় এবং ইউরোপেও এই সংক্রান্ত গতি কমে আসায় এবারের সম্মেলন থেকে বড় ধরনের কোনো চুক্তির আশা করছেন না বিশ্লেষকরা।
বিক্ষোভের অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ ইতিয়েন দ্য ক্যালাতায় বলেন, কেবল আজকের আন্দোলনকারীদের মধ্যেই নয়, সাধারণ জনগণের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই গ্রীষ্মে আমরা যে চরম তাপদাহের অভিজ্ঞতা পেয়েছি তা সম্পর্কে সবাই সচেতন। পরিবেশ ইস্যুতে সাহসী পদক্ষেপ নিলে ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে রাজনীতিবিদদের এমন ভয় পাওয়া উচিত নয়।
উন্নয়ন বিষয়ক একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মী অরোরে শ্রাইবার পরিবার নিয়ে এতে অংশ নিয়ে বলেন, রাজনীতিবিদদের ঘুম ভাঙাতে এবং সাধারণ মানুষের বার্তা পৌঁছে দিতেই আমরা এসেছি। তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দাবি আমাদের শুনতে হবে। শ্রমিকের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করে আমাদের আরও পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্রাসেলসে আয়োজিত ধারাবাহিক জলবায়ু বিক্ষোভের সাম্প্রতিক এই পদযাত্রায় প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে উচ্চাকাঙ্ক্ষী চুক্তি অর্জন ব্যর্থ হওয়ার পর, আগামী মাসের 'কপ৩১' সম্মেলন নিয়ে আগে থেকেই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে এনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সংশয়বাদী ট্রাম্প পুনরায় চুক্তি থেকে সরে আসায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, যা তাদের জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার আলোচনা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
যদিও ইইউ নিজেকে জলবায়ু সুরক্ষায় বৈশ্বিক নেতা ও প্রধান অর্থদাতা হিসেবে দাবি করে আসছে, তবে অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সংস্থাটি সম্প্রতি নিজস্ব পরিবেশ সংক্রান্ত আইন কিছুটা শিথিল করেছে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো, আগামী মাসেই তারা বায়ুদূষণকারী মিথেন গ্যাস সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নের সময়সীমা এক বছর পিছিয়ে ২০২৭ থেকে ২০২৮ সালে নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে। সূত্র: ডন
তামান্না রুপা/
