প্রথম শ্রেণির অভিষেক ম্যাচেই খুলনার হয়ে বাঁহাতি স্পিনার রাকিব হাওলাদার ৮৯ রানে নেন ৫ উইকেট। ছবি: সংগৃহীত
-->জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডে তিনটি খেলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ড্র হয়েছে একটি। রাজশাহীতে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে হারিয়েছে বরিশালকে। চট্টগ্রামে রংপুরের বিপক্ষে ৩৭ রানে জয় পেয়েছে সিলেট। সিলেটে খুলনা ১০ রানে জয়ী হয়েছে চট্টগ্রামের বিপক্ষে। কক্সবাজারে ঢাকা ও ময়মনসিংহের ম্যাচ ড্র হয়েছে। রাজশাহী ও সিলেট এবারের মৌসুমে পেয়েছে প্রথম জয়। তাদের পয়েন্ট ৪ করে খুলনার ছিল দ্বিতীয় জয়। ৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা সবার উপরে। চট্টগ্রাম ও রংপুর পেয়েছে প্রথম হারের দেখা। চট্টগ্রামের পয়েন্ট ৩, রংপুরের পয়েন্ট ২। ঢাকা ও ময়মনসিংহ তিনটি ম্যাচই ড্র করেছে বরিশাল হেরেছে আবার সব ম্যাচেই।
সিলেটে খুলনা ও চট্টগ্রাম দুই দলেরই জয়ের সম্ভাবনা ছিল। খুলনার প্রয়োজন ছিল ৫ উইকেট, চট্টগ্রামের ১০১ রানের। সেখানে জয়ী হয়েছে খুলনা। তারা ৯০ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জিতে ১০ রানে। চট্টগ্রাম ৫ উইকেটে ১৭৪ রান নিয়ে খেলতে নেমে ২৬৪ রানে অলআউট হয়।
অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ৪৬ রান করেন। বাঁহাতি স্পিনার রাকিব হাওলাদার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচেই ৮৯ রানে নেন ৫ উইকেট। মেহেদি হাসান রানা নেন ৭২ রানে ৪টি উইকেট। ম্যাচসেরা হন খুলনার ওপেনার আজিজুল হাকিম।
আরও পড়ুন
রাজশাহীতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭৪ রানে অলআউট হয়ে মাত্র ৪৬ রানে এগিয়ে থাকে। রাজশাহী ২ উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। বরিশাল আগের দিনের ৫ উইকেটে ২৪৯ রান নিয়ে খেলতে নেমে খুব বেশি দূর যেতে পারেনি। ২৫ রান যোগ করেই বাকি ৫ উইকেট হারায়। শফিকুল ইসলাম প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো নেন ৭৩ রান। অপরাজিত ২০২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন রাজশাহীর নাঈম আহমেদ।
চট্টগ্রামে সিলেট দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে অলআউট হয় ২৩৭ রানে। আগের দিনের ৮ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ২ রান যোগ করে শেষ ২ উইকেট হারায়। ৯৪ রানে অপরাজিত থেকে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা অমিত হাসান আর কোনও রান যোগ না করেই আউট হয়ে যান। সিলেট এগিয়ে থাকে ২১০ রানে। রংপুর ২১১ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সিলেটের দুই স্পিনার নাসুম আহমেদ ও নাঈম আহমেদের ঘূর্ণি বলের ফাঁদে পড়ে লক্ষ্য অতিক্রম করতে পারেনি। ১৭৩ রানে তারা অলআউট হয়। ওপেনার অনিক সরকার সেতু ৫৫ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ৪৪ রান করেন। নাসুম ৬৯ রানে ৫টি ও নাঈম ৫৩ রানে নেন ৪ উইকেট। নাসুমের এটি ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বাদশবার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া। ২ ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে নাঈম আহমেদ হন ম্যাচসেরা।
আরও পড়ুন
কক্সবাজারে ঢাকা ও ময়মনসিংহের ম্যাচ যে ড্র হবে তা তৃতীয় দিন শেষেই বুঝা গিয়েছিল। কারণ তখনো দলেরই প্রথম ইনিংস শেষ হয়নি। ময়মনসিংহ প্রথম ইনিংসে ৩৮৭ রান করার পর ঢাকা তৃতীয় দিন শেষ করেছিল ৯ উইকেটে ৩৪২ রান। শেষ দিন তারা ৩৭৭ রানে অলআউট হয়ে পিছিয়ে থাকে ১০ রানে। সুমন খান ৩৮ রান করে আউট হন। ম্যাচসেরা ঢাকার রাকিবুল হাসান ৮০ রানে নেন ৪ উইকেট। নিশ্চিত ড্র ম্যাচে ময়মনসিংহ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ১৬৭ রান করে। আরিফুল ইসলাম ৯২ রান করে আউট হন।
পলাশ/নাঈম
